বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ধোঁয়াজনিত বিষক্রিয়া ও তাপে শ্বাসনালি পুড়ে মৃত্যু

মাদ্রিদে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুতে সরব স্প্যানিশ গণমাধ্যম: বন্ধের নির্দেশ ও জরিমানার পরও চলছিল গ্যারেজ

মিরন নাজমুল বার্সেলোনা প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
মাদ্রিদে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুতে সরব স্প্যানিশ গণমাধ্যম: বন্ধের নির্দেশ ও জরিমানার পরও চলছিল গ্যারেজ

৩০ আগস্ট রবিবার সন্ধ্যা, মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা এলাকায় একটি গ্যারেজে আগুন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি পরিণত হলো এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যুর ঘটনায়।

কিন্তু আগুন নেভানোর পর যে প্রশ্নটি ধীরে ধীরে সামনে আসছে, সেটি আগুন লাগার মুহূর্তের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ- এই স্থাপনাটি কি আগুন লাগার আগেই প্রশাসনের নজরদারিতে ছিল?

স্প্যানিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, উত্তরটি হচ্ছে- হ্যাঁ ছিলো।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।
ছবি: ইউরোপা প্রেস-এ প্রকাশিত সংবাদ।

আর এখান থেকেই ইউসুফ হাসান আলিফের মৃত্যুর ঘটনাটি আর শুধু একটি অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় প্রশাসনিক সতর্কতা, অনুমোদনের সীমা, কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ, সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের ব্যর্থতা এবং শেষ পর্যন্ত জরিমানার প্রশ্ন।

লা সেক্সতার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মাদ্রিদের দমকল বাহিনী ওই স্থাপনায় পরিদর্শন করে। সেখানে বৈদ্যুতিক সাইকেলের ব্যাটারি সংরক্ষণের বিষয়টি নজরে আসে। অথচ স্থাপনাটি গাড়ির গ্যারেজ হিসেবে অনুমোদিত ছিল; বিপুল পরিমাণ ব্যাটারি সংরক্ষণ কিংবা বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দেওয়ার জন্য সেটি অনুমোদিত ছিল না।

এরপর ঘটনাস্থলে মাদ্রিদ পৌর পুলিশের কর্মকর্তারাও যান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ব্যাটারিগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এখানে প্রথম প্রশ্নটি আসে—নির্দেশ দেওয়ার পর কী হয়েছিল?

পরবর্তী পুলিশি পরিদর্শনে দেখা যায়, আগের নির্দেশ পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারির আরেকটি পরিদর্শনেও কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া এগোয়।

এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বৈদ্যুতিক সাইকেল সংরক্ষণ ও চার্জ দেওয়ার কার্যক্রমকে বৈধ করার জন্য প্রশাসনিক ঘোষণা (declaración responsable) জমা দেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে কর্তৃপক্ষ সেটিকে অকার্যকর ঘোষণা করে। কারণ, ওই গ্যারেজে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন ছিল না।

এরপর দেওয়া হয় কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ (orden de cese)।

প্রশ্ন হলো—এই নির্দেশের পর কি সত্যিই কার্যক্রম বন্ধ হয়েছিল?

লা সেক্সতার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে আবারও পরিদর্শন করে মাদ্রিদ পৌর পুলিশ দেখতে পায়, কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ পুরোপুরি মানা হয়নি। এরপর প্রশাসন বাধ্যতামূলকভাবে নির্দেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করে।

সবশেষে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই কার্যক্রম বন্ধ করানোর জন্য প্রথম বাধ্যতামূলক জরিমানা (multa coercitiva) হিসেবে ১ হাজার ইউরো আরোপ করা হয়।

তারপর আসে ৩০ আগস্ট।

প্রায় এক মাস পর, একই স্থাপনার ভূগর্ভস্থ অংশে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে ছুটে যায় মাদ্রিদ দমকল বাহিনীর ১৩টি ইউনিট। স্প্যানিশ গণমাধ্যম এল পাইস, ইউরোপা প্রেস, তেলেমাদ্রিদসহ একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভেতরে বিপুলসংখ্যক বৈদ্যুতিক সাইকেল এবং বিভিন্ন ধরনের মালামাল ছিল।

স্থাপনাটির ভেতরের কাঠামোও ছিল জটিল—একাধিক কক্ষ, সরু ও গোলকধাঁধার মতো পথ এবং এমন বিন্যাস, যা দমকলকর্মীদের দ্রুত প্রবেশ ও আগুন নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলেছিল।

আর এই আগুনের ভেতরেই আটকা পড়েছিলেন ইউসুফ।

দমকলকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার শরীরে ছিল ধোঁয়াজনিত বিষক্রিয়া এবং শ্বাসনালিতে পোড়ার চিহ্ন। শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।

ইউসুফের বয়স নিয়ে স্প্যানিশ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সামান্য পার্থক্য দেখা গেছে। তবে এল পাইস ও এল এস্পানিয়ালের প্রতিবেদনে তাকে ২৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং মাদ্রিদে এক বছরেরও কম সময় ধরে বসবাস করছিলেন। জীবিকার জন্য খাবার সরবরাহের কাজ করতেন।

একজন অভিবাসী তরুণের জীবনের গল্প এখানেই থেমে গেল।

কিন্তু আগুনের কারণ কী?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনো চূড়ান্তভাবে পাওয়া যায়নি।

বৈদ্যুতিক সাইকেলের ব্যাটারি ও চার্জিং ব্যবস্থা নিয়ে তদন্তকারীদের আগ্রহ থাকার কথা স্প্যানিশ বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে চার্জিং এলাকার দিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইউসুফ সেখানে কেন ছিলেন?

স্প্যানিশ পুলিশ তদন্ত করছে, তিনি ওই স্থানে বসবাস করতেন কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে সেখানে অবস্থান করছিলেন। এ বিষয়টিও এখনো নিশ্চিত নয়।

এখন প্রশ্ন হলো, প্রশাসন ডিসেম্বরেই ব্যাটারি সংরক্ষণের বিষয়টি শনাক্ত করে থাকে, তাহলে এরপর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল?

যদি ব্যাটারি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, সেটি কতটা কার্যকর হয়েছিল?

যদি জানুয়ারিতে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি পাওয়া যায়, তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা কী ছিল?

যদি ফেব্রুয়ারিতে বৈদ্যুতিক সাইকেল সংরক্ষণ ও চার্জ দেওয়ার কার্যক্রম বৈধ করার আবেদন অকার্যকর ঘোষণা করা হয়ে থাকে, তাহলে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশের পরও সেটি কীভাবে চলতে থাকল?

আর যদি জুলাইয়ের শেষ দিনে ১ হাজার ইউরোর বাধ্যতামূলক জরিমানা আরোপ করা হয়ে থাকে, তাহলে ৩০ আগস্টের আগ পর্যন্ত ওই স্থাপনায় বাস্তবে কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা দরকার।

কারণ এখানে শুধু গ্যারেজের মালিক বা পরিচালনাকারীর বিষয় নেই। একই সঙ্গে দেখতে হবে প্রশাসনিক নির্দেশ কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কোনো স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ বা অনুমোদনবহির্ভূত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে শনাক্ত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এর মানে এই নয় যে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করতে হবে।

বরং অনুসন্ধানের কাজ হলো—ঘটনার আগে কী জানা ছিল, কে কী নির্দেশ দিয়েছিল, কোন নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছিল, কোথায় ব্যর্থতা ছিল এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছাল—সেগুলো খুঁজে বের করা।

ইউসুফের মৃত্যুর পর আরেকটি বিষয় নিয়েও আমাদের নিজেদের দিকে তাকানো দরকার।

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেকেই জানেন, একটি জায়গা ভাড়া নেওয়া বা ব্যবসা শুরু করার সময় শুধু ভাড়া পাওয়া গেলেই সেটি যেকোনো কাজে ব্যবহার করা যায় না। একটি গ্যারেজের অনুমোদন আর একটি গুদামের অনুমোদন এক নয়। কোনো জায়গায় গাড়ি রাখা বৈধ হলেও সেখানে বিপুল পরিমাণ ব্যাটারি জমিয়ে রাখা বা সেগুলো নিয়মিত চার্জ দেওয়া বৈধ নাও হতে পারে।

আর এই পার্থক্যগুলো না জানার মূল্য কখনো কখনো শুধু জরিমানা নয়, জীবনও হতে পারে।

আমাদের কমিউনিটিতে এমন একটি প্রবণতা কখনো কখনো দেখা যায়, “সবাই তো করছে”, “পরে কাগজ ঠিক হয়ে যাবে”, “আগে কাজ শুরু করি”, কিংবা “কোনো সমস্যা হলে দেখা যাবে।”

এই মানসিকতা দেশে হয়তো অনেক সময় সামান্য ঝামেলা তৈরি করে পার পাওয়া যায়। কিন্তু ইউরোপের কঠোর প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একই ভুলের পরিণতি অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারে।

বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সাইকেলের ব্যাটারি নিয়ে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। ব্যাটারি কোথায় রাখা যাবে, কীভাবে চার্জ করতে হবে, কতগুলো রাখা যাবে, চার্জিংয়ের জায়গায় কী ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হবে, এসব বিষয় ব্যবসা বা কাজের অংশ হিসেবে যারা যুক্ত, তাদের জানা প্রয়োজন।

কোনো সরকারি নোটিশ হাতে এলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে পড়তে হবে। ভাষা বুঝতে না পারলে অনুবাদ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আইনজীবী, পরামর্শক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিতে হবে। নির্দেশ ভুল মনে হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত পথ রয়েছে। কিন্তু নোটিশকে উপেক্ষা করে অপেক্ষা করা নিরাপদ পথ নয়।

কারণ প্রশাসনের দেওয়া একটি চিঠি কখনো কখনো কেবল কাগজ নয়। সেটি হয়তো একটি সম্ভাব্য বিপদের আগাম সংকেত।

ইউসুফের মৃত্যু আমাদের সেই সংকেতের মূল্য নতুন করে বুঝিয়ে দিল।

এখন তদন্তকারীদের কাজ হলো আগুনের প্রকৃত কারণ বের করা। প্রশাসনের কাজ হলো আগের নির্দেশগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল, কোথায় ঘাটতি ছিল এবং ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি কীভাবে ঠেকানো যায়, তা খুঁজে দেখা। আর আমাদের কাজ হলো এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া।

ইউসুফের মৃত্যু এখন আমাদের সামনে একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা রেখে গেছে, একটি স্থাপনা নিয়ে প্রশাসনিক সতর্কতা ছিল, কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ ছিল, জরিমানা পর্যন্ত হয়েছিল। তারপরও সেখানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হলো, যেখানে একজন তরুণ আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে প্রাণ হারালেন।

সেই সাথে সুদূর প্রবাসে বিলীন হয়ে গেলো একটি বাংলাদেশি পরিবারের স্বপ্ন, একজন সুন্দর ভবিষ্যৎমুখী যুবকের জীবন, একজনের মায়ের বুকের সন্তান।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।

ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।
এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।

এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।

এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।

দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এর ২২তম আসর বসেছে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আয়োজনে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ বুথে হালাল খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিহাস ২০২৬। প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কর্মসূচির মাধ্যমে এবার ৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ১২৩ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর মিহাস শুধু হালাল খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে এটি হালাল অর্থনীতির বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের পথও তৈরি হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এবারের মিহাসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো ইন্দেরা আবু বকর ইউসুফ জানান, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট এআই এজেন্ট ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা, প্রদর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, বহুভাষিক সহায়তা, প্রদর্শনী কেন্দ্রের বিভিন্ন স্টল খুঁজে পাওয়া, বৈঠক ব্যবস্থাপনা এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মিহাসের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংযোগ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে ৬০০ মালয়েশিয়ান রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ হাজার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রিমিয়াম ক্রেতাও রয়েছেন।

বাংলাদেশি ৬ প্রতিষ্ঠা :
এবারের মিহাসে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো, অ্যাপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড, তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নরিশ ফুডস লিমিটেড এবং বায়োফার্মা লিমিটেড। এর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণও রয়েছে।

প্রাণ আটটি স্টলে স্ন্যাকস, জুস ও ড্রিংকস, কুলিনারি পণ্য, বিস্কুট, বেকারি ও কনফেকশনারিসহ বিভিন্ন হালাল পণ্য প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ফ্লেভারড নুডলস, চকলেট, ওয়েফারসহ নানা ধরনের ভোক্তাপণ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এফটিএ নিয়ে আশাবা :
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে। হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময়।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফটিএ হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা, মান, পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে অমুসলিম ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে হালাল অর্থনীতি এখন খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, পর্যটন, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে।

এ বাস্তবতায় মিহাস শুধু পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতা খোঁজা, নতুন বাজারে প্রবেশ, ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও দেশীয় হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক