কাতালোনিয়ায় পাঁচ বছরে পানিতে ডুবে ৩৯ শিশুর মৃত্যু, অধিকাংশই অভিবাসী পরিবারের
▪️পাথর থেকে সমুদ্রে লাফ দিলে ১০০ ইউরো জরিমানা।
স্পেনের কাতালোনিয়ায় বিগত ৫ বছরে পানিতে ডুবে ১৮ বছরের কম বয়সী ৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রথমবারের মতো কাতালোনিয়ার ফরেনসিক মেডিসিন ও আইনবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এ ঘটনাগুলোর ওপর বিস্তারিত গবেষণা চালিয়ে উদ্বেগজনক কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিহত শিশুদের ৫৬ শতাংশই বিদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে মরক্কোর বংশোদ্ভূত শিশুদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া মৃতদের ৬০ শতাংশের বয়স ছিল পাঁচ বছরেরও কম।
তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এ তথ্যকে জাতীয়তা বা অভিবাসী পরিচয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখা উচিত নয়। বরং এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিক্ষার সুযোগের অভাব এবং নিরাপদ সাঁতার শেখার সীমিত সুযোগের প্রতিফলন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্প্যানিশ শিশুদের বেশিরভাগই সুইমিং পুলে ডুবে মারা গেলেও বিদেশি পরিবারের শিশুরা বেশি প্রাণ হারায় সমুদ্র, নদী বা জলাধারের মতো উন্মুক্ত জলাশয়ে। এসব স্থানে নিরাপদে চলাচলের জন্য বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
সামাজিক সংগঠনগুলোর ভাষ্য, নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারে শিশুদের সাঁতার শেখানো বা জলকেন্দ্রিক বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে পানির পরিবেশ সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা ও সচেতনতা কম থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতিতে কাতালোনিয়ার ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউট সব শিশুর জন্য অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সাঁতার শেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিলের ‘জা নেদো’ (Ja Nedo!) কর্মসূচির আওতায় সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সাঁতার শেখানো হচ্ছে। গত শিক্ষাবর্ষে ২৩৯টি সরকারি স্কুলের ১০ হাজার ৩২৫ জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
অন্যদিকে, জুন মাসে তারাগোনার আরাবাসাদা সৈকতে তিন কিশোরের মৃত্যুর পর সেখানকার সিটি কাউন্সিল সমুদ্রের পাথুরে এলাকায় লাফ দেওয়া নিষিদ্ধ করে নতুন সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে। পাশাপাশি দুর্গম সৈকত এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাথর থেকে সমুদ্রে লাফ দিলে ১০০ ইউরো জরিমানা করা হবে।













