পর্তুগালে বোরকা পরিধান নিষিদ্ধ, সংসদে আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন
পর্তুগালের সংসদে জনপরিসরে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে আনা বহুল আলোচিত ‘বোরকা আইন’ চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। শুক্রবারের চূড়ান্ত সাধারণ ভোটে পিএসডি (PSD), শেগা (Chega), ইনিশিয়াতিভা লিবারাল (IL) এবং সিডিএস (CDS) বিলটির পক্ষে ভোট দেয়।
শেগা পার্টির নেতা আন্দ্রে ভেঞ্চুরার নেতৃত্বাধীন দলটি এই আইনটির প্রস্তাব উত্থাপন করে। এর আগে গত সপ্তাহে সাংবিধানিক বিষয়ক কমিটিতেও একই ধরনের ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়।
বামপন্থী সংসদ সদস্যদের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিলটি পাস হওয়ার পর শেগা দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ করতালি দিয়ে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। প্যান দলের সংসদ সদস্য ইনেস দে সুসা রিয়াল ভোটদানে অংশ নেননি।
আইনটি নিয়ে বিশেষায়িত কমিটিতে পিএসডি ও শেগার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা (PSD) ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সম্ভাব্য সাংবিধানিক জটিলতা এড়াতে প্রস্তাবে পরিবর্তনের দাবি জানায়। তাদের অবস্থান ছিল, বিষয়টিকে ধর্মীয় পোশাকের পরিবর্তে মূলত জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত।
২০২৫ সালের অক্টোবরে নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার পর বিলটি প্রায় আট মাস ধরে বিস্তারিত আলোচনার পর্যায়ে ছিল। চলতি বছরের জুনে পিএসডি শেগার মূল প্রস্তাবের বিকল্প একটি খসড়া উপস্থাপন করে, যেখানে ধর্মীয় দিকের পরিবর্তে নিরাপত্তাজনিত কারণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে শেগা তাদের প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন আনে। নতুন খসড়ায় বলা হয়, নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে জনপরিসরে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি বয়স, লিঙ্গ, ধর্মীয় পরিচয় বা উৎসের কারণে কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢাকতে বাধ্য করা যাবে না।
প্রাথমিক প্রস্তাবে জোর করে কাউকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছিল। পরে সেটিকে প্রশাসনিক অপরাধ হিসেবে সংশোধন করা হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, অবহেলাজনিত অপরাধে ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃত অপরাধে ৪০০ থেকে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
আইনটি এখন পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জননিরাপত্তা এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে পর্তুগালে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।













