হামের সংক্রমণে বিপর্যস্ত শিশু স্বাস্থ্যসেবা, থামছে না শিশুমৃত্যুর মিছিল
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট) শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ফুসকুড়ি–জাতীয় উপসর্গে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটির মধ্যেও চিকিৎসাসেবা নিতে অভিভাবকদের উপস্থিতি কমেনি। অনেক পরিবার গ্রামে না গিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন সন্তানের চিকিৎসার জন্য। জরুরি বিভাগে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও সংক্রমণজনিত নানা উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক। দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা না হলে জটিলতা বাড়তে পারে। তারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঈদের সময় রাজধানীর বাইরে থেকে আসা রোগীদের মধ্যেও সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আটজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর পরদিন আরও দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ জনে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও অনেক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অন্যথায় সংক্রমণের বিস্তার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।











