রোজার আগে ভোট: নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে ইসি
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ রোডম্যাপ ঘোষণা করেন ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এ রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে রমজানের আগে ভোট সম্পন্ন করার নির্দেশনা এসেছে। তিনি আরও বলেন, ভোটের তারিখের অন্তত ৬০ দিন আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপে মোট ২৪টি অগ্রাধিকারমূলক কাজের তালিকা রয়েছে। এসব কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন এবং নির্বাচনী আইনবিধির সংস্কার।
আগেই ইসি জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। আর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে।
অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা
রোডম্যাপে অংশীজনের সংলাপ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনী আইন ও বিধি সংস্কার, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, নির্বাচনী এলাকা পুনর্নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা, পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন, দেশি–বিদেশি সাংবাদিক অনুমোদন, নির্বাচনের জন্য জনবল ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী উপকরণ সংগ্রহ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয়, অন্যান্য আইন একীভূতকরণ, ম্যানুয়েল নির্দেশিকা, পোস্টার ও পরিচয়পত্র মুদ্রণ, প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার উপযোগীকরণ, নির্বাচনী বাজেট বরাদ্দ, প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগব্যবস্থা সুসংহতকরণ, ডিজিটাল মনিটর ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বেসরকারি পর্যায়ে প্রাথমিক ফলাফল প্রচার, ফলাফল প্রকাশ ও প্রদর্শনসহ (বিভিন্ন মাধ্যমে) নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংলাপ ও ভোটার তালিকা
রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু হবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে, যা চলবে দেড় মাস।
ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে, যা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত করা হবে। ৩১ অক্টোবরের সম্পূরক তালিকা শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ৩০ নভেম্বর।
আইন ও বিধি সংস্কার
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও অন্যান্য আইনবিধি সংশোধনের প্রস্তাব ও প্রণয়ন শেষ হবে ৩১ আগস্টের মধ্যে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন, ভোটার তালিকা আইন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি–বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা, নির্বাচন পরিচালনা (সংশোধন) ২০২৫, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯ বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব কাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা আছে।
সীমানা ও গেজেট
সেপ্টেম্বরের শুরুতে সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। একই মাসের মধ্যে জিআইএস ম্যাপ প্রস্তুত ও প্রকাশের কাজও সম্পন্ন করা হবে।
পোস্টাল ভোট ও ব্যালট ব্যবস্থা
পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ার জন্য প্রকল্প অনুমোদন, সফটওয়্যার চূড়ান্তকরণ, মোবাইল অ্যাপ তৈরি, নিবন্ধন ও ট্র্যাকিং মডিউলসহ প্রচারণা অক্টোবর মাসে শেষ হবে। বিদেশে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে নভেম্বর মাসে এবং কারাবন্দীদের ব্যালট পাঠানো হবে ভোটের দুই সপ্তাহ আগে।
আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কার্যক্রম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সেপ্টেম্বর মাসে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার ১৫ দিন আগে এবং তফসিল ঘোষণার পরও একাধিক বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে।













