শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলা
দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখালো ট্রাইব্যুনাল
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বর-এ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেড-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা-কে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেঞ্চের অন্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ৭ জুন নির্ধারণ করেন। একইসঙ্গে তদন্ত সংস্থাকে ওইদিনের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শাপলা চত্বরের সহিংস ঘটনাকে পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে ৫৮ জন নিহতের তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মামলায় তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শীর্ষ কর্মকর্তার নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান।
এছাড়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ এবং পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মোল্যা নজরুল ইসলাম-এর নামও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় ইমরান এইচ সরকার-এর নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ওই সময় কিছু গণমাধ্যম ঘটনাকে উসকানিমূলকভাবে উপস্থাপন করে প্রকৃত তথ্য আড়াল করতে সহায়তা করেছিল। এ কারণেই দুই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার রাতে কতজন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ তুললেও সরকারি অবস্থান ছিল ভিন্ন।
বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম নতুন করে শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। আগামী ৭ জুনের শুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে সংশ্লিষ্ট সবার নজর রয়েছে।













