ভোটের ফল প্রকাশ আজ
মোদি না মমতা, শেষ হাসি হাসবেন কে?
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতে যাচ্ছে আজ সোমবার। এবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসবে নাকি প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও সরকার গঠন করবে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি তা নিয়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। এছাড়াও ভারতের তামিলনাড়ু, আসাম, কেরালা ও পুদুচেরির নির্বাচনের ফলও আজ প্রকাশ করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বুথফেরত জরিপগুলো পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে। কিছু জরিপ বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও অন্য কিছু জরিপ বা সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসের সামান্য এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা দেখিয়েছে। আবার অনেক বুথফেরত জরিপে বিজেপি বড় ব্যবধানে উত্থান ঘটিয়ে সরকার গঠনের কাছাকাছি বা ম্যাজিক ফিগার পার করার ইঙ্গিতও দিয়েছে। এবারের নির্বাচনকে একাত্তরের পর অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গে ১৫২টি আসনে ভোট হয় এবং সেখানে ভোটের হার ছিল ৯২.৮৮ শতাংশ।
এবার ৯০ শতাংশের বেশি রেকর্ড ভোটদান হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে মানুষ নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে সচেতন ছিল। এবারের নির্বাচনে মূল ইস্যু ছিল নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন, যা এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে ১৫টি বুথে পুনঃভোটের নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে ১১টি মাগরাহাট পশ্চিমে এবং চারটি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে। এ ছাড়া উত্তর চব্বিশ পরগনায় পুনঃভোট চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে দুই দফাতেই সর্বোচ্চ ভোটদানের হার রেকর্ড হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গসহ আজ সকাল প্রায় ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে। প্রথমে ডাকযোগে প্রাপ্ত ব্যালট গণনা করা হবে, এরপর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) গণনা শুরু হবে। তবে ফলতা কেন্দ্রের ফল ২৪ মে প্রকাশ করা হবে, কারণ সেখানে পুনঃভোটের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা আসন নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন গত শনিবার রাতে ওই আসনের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে আজ ২৯৪টির মধ্যে ২৯৩টি আসনের ফল প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফলতা আসনে পুনঃভোট গ্রহণ করা হবে ২১ মে এবং ভোট গণনা হবে ২৪ মে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই আসনে ইভিএমে বিভিন্ন প্রার্থীর প্রতীকের ওপর টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়, অনেক ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয় এবং শাসক দলের কর্মীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন ভোটাররা। বুথের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং নারীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিল করেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস












