লুকিয়ে রাখা অস্ত্র বের করছে ইরান, যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও
ছবিঃ সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে Iran নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর সঙ্গে টানা সংঘাত শেষে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি থেকে কার্যত সরে এসে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুনর্গঠনে কাজ শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অস্ত্র উদ্ধার এবং ভূগর্ভে সংরক্ষিত সামরিক সরঞ্জাম বের করে আনার কার্যক্রমও চলছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্ভাব্য নতুন মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কা থেকেই ইরান দ্রুত পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে।
বৈঠকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সামরিক বিকল্প ও বর্তমান অবরোধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করবেন। খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, আবারও ইরানে অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে এবং এ বিষয়ে আলোচনা সীমিত পরিসরে চলছে।
একইসঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে সেনা পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে অতিরিক্ত জ্বালানি, খাদ্য ও গোলাবারুদ সরবরাহ জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহারের একটি প্রস্তাব নাকচ হয়েছে। ফলে সামরিক উত্তেজনা কমার বদলে আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আসন্ন চীন সফর এবং সি চিন পিং-এর সঙ্গে বৈঠক এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।









