পর্তুগালের বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে,পর্যটনে শঙ্কা
পর্তুগালের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হুমবের্তো দেলগাদো বিমানবন্দরে অ-ইউরোপীয় যাত্রীদের জন্য নতুন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দীর্ঘ সারি ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার ঘটনা বেড়েই চলেছে। একই পরিস্থিতি ফারো বিমানবন্দরেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে যাত্রীরা ফ্লাইট মিস করার মতো জটিলতার মুখে পড়ছেন।
নতুন ইউরোপীয় প্রবেশ-প্রস্থান ব্যবস্থা (ইইএস) চালুর ফলে পাসপোর্টে সিল দেওয়ার পরিবর্তে বায়োমেট্রিক তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে বাস্তবায়নের শুরুতেই প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও জনবলের ঘাটতির কারণে যাত্রী ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই বহু যাত্রী দীর্ঘ লাইনের ভিডিও ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা পরিস্থিতির গুরুতর চিত্র তুলে ধরছে। (সূত্র: সিক নোটিসিয়াস)
বিমান সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে আসন্ন গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা রায়ানএয়ার সরকারকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, পর্যাপ্ত কর্মী, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক স্থাপনের অভাব রয়েছে।
লিসবনের মেয়রও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২০২৫ সালে হুমবের্তো দেলগাদো বিমানবন্দর দিয়ে ৩৬ মিলিয়নের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা পর্তুগালের পর্যটন নির্ভর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, ট্রাভেল এজেন্সি সমিতিও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা প্রকাশ করে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত ব্যবস্থাটি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে চালু হলেও, কিছু দেশ ইতোমধ্যে গ্রীষ্ম মৌসুম পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে।
পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পর্তুগালের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং পর্যটন আয় উভয়ই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।













