শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কূটনীতি থেকে বাণিজ্যে গতি: হাইকমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
কূটনীতি থেকে বাণিজ্যে গতি: হাইকমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

মিনিস্টার অব ইনভেস্টমেন্ট, ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি দাতুক সেরি জোহারি আব্দুল গানির সাথে দুই দেশের বাণিজ্য- বিনিয়োগ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ক্রমবর্ধমান। ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যে সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা সময়ের সঙ্গে আরও সুদৃঢ় হয়েছে। বর্তমানে এই সম্পর্ক শুধু আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সর্ম্পকের বহুমূখীকরণে এবং অর্থনৈতিক সর্ম্পকে গতিশীলতা আনতে কাজ করে চলেছে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।

বিশ্ব বাণিজ্যে মালয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান অঞ্চলে এটি অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বা ‘হাব’ হিসেবে বিবেচিত। এই অবস্থানের কারণে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মিনিস্টার অব ইনভেস্টমেন্ট, ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি দাতুক সেরি জোহারি আব্দুল গানির সাথে দুই দেশের বাণিজ্য- বিনিয়োগ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এই অর্জন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা ও সম্ভাবনার প্রতিফলন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে যা বাংলাদেশের জন্যও আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল প্রায় ২.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মার্চ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রবণতা একইরকম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মালয়েশিয়াতে রপ্তানির পরিমাণ ২৮২.৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পক্ষান্তরে মালয়েশিয়া হতে বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ ছিল ২.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ হতে মালয়েশিয়াতে রপ্তানির পরিমাণ ২৩৪.৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, নতুন পণ্য রপ্তানির তালিকায় যুক্ত হচ্ছে এবং রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী হচ্ছে।

হাইকমিশনার মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং ফেডারেশন (এফএমএম) এবং সারাওয়াক বিজনেস ফেডারেশন (এসবিএফ)-এর সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন,যেখানে বাংলাদেশ ও সারাওয়াকের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনক ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের তালিকায় বৈচিত্র রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী রপ্তানিকৃত উল্লেখযোগ্য পণ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক (নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্টস), শাকসবজি ও আলু, ড্রাই ফুড, ময়দা ও দুধ থেকে তৈরি সামগ্রী, জুস/পানীয়, স্পিরিট এবং ভিনেগার, চামড়া ও চামড়া জাতপণ্য, রাবার/রাবার জাতপণ্য, মশলা ও ঔষধপণ্য। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত এই বাণিজ্যের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান মালয়েশিয়ার বাজারেও সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
শুধু শিল্পপণ্য নয়, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে হালাল খাদ্যপণ্যের বিশাল বাজার বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা।

হাইকমিশনের সহায়তায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মালয়েশিয়ান হালাল সার্টিফিকেশন এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি হালাল ইকোসিস্টেমের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন হালাল বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের মধ্যে একটি কূটনৈতিক নোট বিনিময় হয়েছে যার মাধ্যমে একটি হালাল অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছে, যা হালাল খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং এসংক্রান্ত বৈশ্বিক মানকে সংযুক্ত করবে।

হাইকমিশনার মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং ফেডারেশন (এফএমএম) এবং সারাওয়াক বিজনেস ফেডারেশন (এসবিএফ)-এর সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন,যেখানে বাংলাদেশ ও সারাওয়াকের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনক ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এলক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ, রাজ্য সরকার, ব্যবসায়িক চেম্বার এবং বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিতভাবে নেটওয়ার্কিং সভা এবং মতবিনিময়ের আয়োজন করে যেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া হাইকমিশন বাংলাদেশি রপ্তানিকারক ও মালয়েশিয়ান আমদানিকারকদের মধ্যে বিজনেস ম্যাচমেকিং ও নেটওয়ার্কিং আয়োজন এবং বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে নিয়মিতভাবে বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করে থাকে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হালাল অর্থনীতি, পর্যটন, খাদ্য ও পানীয়, উপহার সামগ্রী এবং যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ায় চৌদ্দটি (১৪)টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করেছে।

এই মেলাগুলোয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রপ্তানিপণ্যের বহুমুখীকরণসহ মালয়েশিয়া তথা আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার তৈরী ও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালে সেমিকন্ডাক্টর, ঔষধশিল্প, তৈরী পোশাক, হালাল অর্থনীতি, খাদ্য ও পানীয় ও পর্যটন বিষয়ে অন্তত ৬টি মেলায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে হাইকমিশনের।

২০২৫ সালে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস ফোরাম অনুষ্ঠিত হয় যেখানে মালয়েশিয়ার শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে একটি স্বল্প-ব্যয়বহুল বাজারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত বিনিয়োগের গন্তব্য হিসাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।

মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানন-এর সাথে বৈঠক করেন হাইকমিশনার। বৈঠকে দুপক্ষের মধ‍্যে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মী নিয়োগসহ বাংলাদেশী প্রবাসীদের সার্বিক কল‍্যান নিশ্চিতকরণ এবং মানব সম্পদ ব‍্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়াও বাংলাদেশের তরুণ এবং সৃজনশীল জনগোষ্ঠীর সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকারীদের ম্যানুফেকচারিং, জ্বালানি, হালাল শিল্প এবং সার্ভিস সেক্টরে বিনিয়োগের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এবং প্ল্যাটফর্ম হিসাবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। চলতি ২০২৬ সালেও বাংলাদেশ হাইকমিশন এর উদ্যোগে বিজনেস ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মালয়েশিয়া বাংলাদেশে নবম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ এবং বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৫৫.৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কুচিংয়ে প্রিমিয়ারের কার্যালয়ে সারাওয়াকের প্রিমিয়ার আবাং হাজি আব্দুর রহমান যোহারি বিন তুন আবাং হাজি ওপেং-এর সাথে বৈঠক করেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী , বৈঠকে দুই পক্ষ কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শ্রমিক অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময়। দু্ই বন্ধুপ্রতীম দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত করতে হালাল বাণিজ্য, ডিজিটাল অর্থনীতি, জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প উন্নয়নে পারষ্পারিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে উভয়দেশ নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

তবে ইতিবাচক প্রবণতার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ভারসাম্যের অসামঞ্জস্য, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা। এসব সমস্যা সমাধানে হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করছে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। পাশাপাশি বাণিজ্য সহজীকরণে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণে ওষুধ, ব্যাটারি, চামড়া জাত পণ্য, সিরামিক এবং পাটের মতো পণ্যের জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে সহজ প্রবেশাধিকারের অনুরোধ জানিয়ে আসছে এবং দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে নেগোসিয়েশন শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক