পর্তুগালে নাবালক সন্তান থাকলেও ডিপোর্ট সহজ করে নতুন খসড়া আইন
সরকারের নতুন “প্রত্যাবর্তন প্যাকেজ” (Pacote de Retorno) অনুযায়ী, নাবালক সন্তান থাকলেও অভিবাসীদের নির্বাসন আরও সহজতর হতে যাচ্ছে। সোমবার সংসদে উপস্থাপিত সংশোধিত খসড়া আইনে বহিষ্কার-সংক্রান্ত বিধানগুলোর মধ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, অভিবাসীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে শিশুদের উপস্থিতি সীমা হিসেবে গণ্য হবে কেবল তখনই, যদি শিশু “বৈধভাবে” দেশে বসবাস করে অর্থাৎ তার নিজস্ব বসবাসের অনুমতিপত্র (título de residência) থাকে।
আইনের ১৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদের নতুন ভাষ্যে বলা হয়েছে: পর্তুগিজ ভূখণ্ডে আইনত বসবাসকারী তৃতীয় দেশের নাগরিক যদি এমন নাবালক সন্তানের অভিভাবক হন, যার প্রতি তিনি কার্যকরভাবে অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করেন এবং যার ভরণপোষণ ও শিক্ষা নিশ্চিত করেন, তবে সেই ক্ষেত্রে বহিষ্কার স্থগিত থাকতে পারে।
এছাড়াও, নতুন প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে পাঁচ বছরের ন্যূনতম বসবাসকালীন শর্ত। অর্থাৎ, নির্বাসন সীমাবদ্ধতার সুযোগ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীকে পর্তুগালে কমপক্ষে পাঁচ বছর বসবাস করতে হবে। বর্তমান আইনে এ ধরনের সময়সীমা নেই।
আইনটির চূড়ান্ত খসড়া সোমবার সংসদে উপস্থাপনের আগে ডিসেম্বর মাসে Conselho Nacional para as Migrações e Asilo-এর বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে বেশ কয়েকজন সদস্য এই পরিবর্তনের সমালোচনা করেন। তাদের মতে, এটি শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনের নৈতিক মানদণ্ডের বিরুদ্ধে যেতে পারে।
মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে সংবাদ সম্মেলনে সরকারি মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য স্থগিত রাখলেও, সংসদে উপস্থাপিত সংস্করণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, সরকারের নির্বাহী বিভাগ জনমতের এই আপত্তি উপেক্ষা করেছে।
শরণার্থী অধিকারবিষয়ক সংগঠন এবং অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে পরিবারের একীকরণ নীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং অনেক শিশুকে জোরপূর্বক বিচ্ছেদের ঝুঁকিতে ফেলবে













