পর্তুগালে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ
অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীরবতার প্রতিবাদে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে জনপ্রশাসনের প্রায় ৫০০ কর্মী রাস্তায় নেমে অন্তর্বর্তীকালীন বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
পর্তুগালের জনপ্রশাসনে কর্মরত শত শত সরকারি কর্মচারী শুক্রবার লিসবনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন, যেখানে তাদের মূল দাবি ছিল ন্যূনতম ১৫০ ইউরোসহ প্রায় ১৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং সরকারি সেবাখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। ফিগুয়েইরা স্কয়ার থেকে শুরু হওয়া এ মিছিল নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় কমন ফ্রন্ট অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইউনিয়নস সংগঠনের সমন্বয়কারী সেবাস্তিও সান্তানা জানান, গত ১৪ জানুয়ারি কমন ফ্রন্ট সরকারের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব জমা দিয়েছিল, কিন্তু প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার কোনো লিখিত বা মৌখিক জবাব দেয়নি। তার অভিযোগ, অর্থমন্ত্রী জোয়াকিম মিরান্ডা সারমেন্টোর নেতৃত্বাধীন অর্থ মন্ত্রণালয় ইচ্ছাকৃতভাবেই এ আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে এবং এ কারণেই শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে হয়েছে।
সেবাস্তিও সান্তানা বলেন, সরকার যে সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত পরিমাণে বেতন সমন্বয় করেছে, তা প্রকৃত কোনো বৃদ্ধি নয়; বরং এটিকে তিনি “দারিদ্র্যের নীতি অব্যাহত রাখার কৌশল” হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, ইনফ্লেশন ও জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, বর্তমান বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত কমছে এবং অনেকেই দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কমন ফ্রন্টের দাবি, ন্যূনতম ১৫০ ইউরো এবং গড়ে ১৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি ছাড়া বাস্তবে ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই।
বিক্ষোভস্থলে কর্মীরা হাতে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যেখানে লেখা ছিল “সবার জন্য জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিকদের মূল্যায়ন, জনগণের সেবা” এবং “উন্নত কর্মপরিবেশ, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ” ইত্যাদি স্লোগান। অংশগ্রহণকারীরা সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা, স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতের কর্মী, যারা দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও নিম্ন বেতনের বিষয়টি তুলে ধরছেন।
দেশের বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সিজিটিপি এ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিয়াগো অলিভেইরা বিক্ষোভে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের যে বাস্তব সমস্যা—বেতন স্থবিরতা, মূল্যস্ফীতির চাপ, কর্মপরিস্থিতির অবনতি তা নিয়ে বর্তমান সরকার বারবার আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমনীতি ও শ্রম প্যাকেজ নিয়ে আলোচনায় সরকার প্রায়ই দেশের বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনকে প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে রাখে এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে সামাজিক সংলাপকে দুর্বল করার চেষ্টা করে।
টিয়াগো অলিভেইরা সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ সংস্থা লুসার সাংবাদিক ও কর্মীদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে যেমন সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও শ্রম অধিকার হুমকির মুখে, তেমনই জনপ্রশাসনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অবহেলা দেখা যাচ্ছে। তার দাবি, শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করে সরকারের অর্থনৈতিক নীতি মূলত মজুরি দমন ও বাজেট সঙ্কোচনকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।
কমন ফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৩ মার্চের এ বিক্ষোভ সরকারের প্রতি “শেষ সতর্কবার্তা” হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংগঠনটি সতর্ক করেছে, যদি শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয় আলোচনায় না বসে এবং বেতন ও কর্মপরিস্থিতি নিয়ে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দেয়, তবে তারা আগামী দিনে জনপ্রশাসনের বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ও সর্বাত্মক ধর্মঘটের দিকে যাবে, যা সব সেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
এদিকে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক সেবাখাতের প্রতিনিধিত্বকারী কিছু ইউনিয়নও কমন ফ্রন্টের এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং বলছে, যথাযোগ্য বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ী নিয়োগ ছাড়া জনসেবার মান ধরে রাখা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর মতে, সরকারি খাতে দক্ষ জনবল ধরে রাখতে হলে মজুরি কাঠামো এবং ক্যারিয়ার উন্নয়ন দুই ক্ষেত্রেই বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনতে হবে










