পর্তুগালে অতি দারিদ্র ভাতা গ্রহণকারীদের সংখ্যা ২০ বছরে সর্বনিম্ন
পর্তুগালের সর্বনিম্ন আয়ভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি সামাজিক একীকরণ আয় (RSI) গত দুই দশকের মধ্যে সুবিধাভোগীর সংখ্যায় রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় ছিলেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৭ শতাংশ কম, অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার সুবিধাভোগী হ্রাস পেয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গড়ে প্রতিটি ব্যক্তির মাসিক সহায়তা ১৫৫ ইউরো, এবং প্রতি পরিবারে এটি প্রায় ৩২৭ ইউরো হিসেবে দাঁড়ায়। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার পরিবার এই আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে, যা ডিসেম্বর ২০২৫-এর তুলনায় ৭৪৮টি পরিবার কম।
“সামাজিক নিরাপত্তা পরিসংখ্যানগত সারসংক্ষেপ”-এর তথ্য অনুযায়ী, সুবিধাভোগীর এই হ্রাসের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে প্রথমত, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলক অনুকূল হওয়া, এবং দ্বিতীয়ত, সরকার আরও কঠোর উপযুক্ততা নীতি প্রয়োগ করা।
সোশিওইকোনমিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি পরিবর্তন সরকারকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, তবে এটি সমাজের সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণির ওপর চাপ বাড়াতে পারে। RSI কর্মসূচিটি প্রাথমিকভাবে তৈরি করা হয়েছিল অতি দরিদ্র নাগরিকদের জন্য একটি ন্যূনতম সুরক্ষা বলয় হিসেবে, যা তাদেরকে মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে শিশু ও কিশোররা সুবিধাভোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, আর ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের অংশ ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। সামাজিক সাহায্যপ্রাপ্তদের অধিকাংশই দীর্ঘকালীন বেকার অথবা নিম্ন আয়ের পেশায় নিয়োজিত।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকার RSI রেফারেন্স মান কিছুটা বৃদ্ধি করেছে, যদিও সেই দ্রুত অর্থনৈতিক প্রভাব এখনো প্রতিফলিত হয়নি।
এই কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বরাবরই বিতর্ক রয়েছে। সরকারপন্থীরা এটিকে দারিদ্র্য নিরসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বললেও, বিরোধী পক্ষের দাবি নীতি কঠোর হওয়ায় অনেক দরিদ্র পরিবার সহায়তার বাইরে থেকে যাচ্ছে










