হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা: ৪ নাবিক নিহত, গুরুতর আহত ৩
হরমুজ প্রণালী এলাকায় একটি জাহাজে হামলার ঘটনায় অন্তত চারজন নাবিক নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ৬ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার ওমানের উত্তর উপকূল থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে একটি টাগবোটে প্রজেক্টাইল আঘাত করলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে।
ব্রিটেনের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রিটিশ সময় দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে ঘটনাটি নথিভুক্ত করা হয়। ওই সংস্থা সমুদ্রপথে চলাচলকারী সব জাহাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ দেখা গেলে দ্রুত তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে পারস্য উপসাগরে প্রায় ২০ হাজার নাবিক বিভিন্ন জাহাজে আটকে পড়েছেন। তারা এমন পরিস্থিতিতে রয়েছেন যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি এবং দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকার কারণে তাদের মানসিক চাপও বেড়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সমুদ্রপথে কাজ করা নাবিকরা এখন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং নাবিকদের নিরাপত্তা, তাদের অধিকার এবং সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এই সপ্তাহেই মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ সাফিন প্রেস্টিজ হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন পানিসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে এবং তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার দাবি করে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তাদের দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেনি। তবে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর ইরানকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথেও পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।










