হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করল ইরান
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল মিশন এসপাইডেসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইরানি নৌবাহিনী স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে কোনো জাহাজকেই এই সরু সামুদ্রিক পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালী ওমান উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বের মোট ক্রুড রপ্তানির প্রায় ২০-৩০ শতাংশ। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি এই নৌপথের উপর নির্ভরশীল।
আইআরজিসির সংবাদ সংস্থা তাসনিমের মতে, ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরপরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা পারস্য উপসাগরের ভেতরের জাহাজগুলোকে আটকে রেখেছে এবং জেবেল আলীসহ বড় বন্দরগুলোকে বিশ্ব বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছে যে, তাদের উপর সামরিক হামলা হলে এই ‘অয়েল চোক পয়েন্ট’ বন্ধ করে দেবে।
বন্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বড় কনটেইনার লাইনগুলো যেমন মার্স্ক, সিএমএ সিজিএম ও হাপাগ-লয়েড হরমুজ এড়িয়ে কেপ অফ গুড হোপের পথে রুট পরিবর্তন করেছে, যা এশিয়া-ইউরোপ রুটে ১০-১৪ দিন অতিরিক্ত সময় যোগ করবে। এতে জ্বালানি খরচ বাড়বে, বন্দর জটলা হবে এবং সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
আন্তর্জাতিক জাহাজ মালিকদের সংগঠন বিমকোর মতে, পারস্য উপসাগরে কোনো বিকল্প সমুদ্রপথ না থাকায় এই অচলাবস্থা শক্তিবাজারে তাৎক্ষণিক সংকট সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভি ইতিমধ্যে অঞ্চলে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিয়ার মোতায়েন করেছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভায় চলমান পারমাণবিক আলোচনায় ‘গাইডিং প্রিন্সিপলস’-এ সমঝোতা হলেও চূড়ান্ত চুক্তির পথ দীর্ঘ বলে সতর্ক করেছেন










