পদোন্নতি পাওয়া দুই জেনারেলকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) তাঁর কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই দিনে তিনি পদোন্নতিপ্রাপ্ত দুই জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাকে নতুন র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
সকাল ৯টার আগেই প্রধানমন্ত্রীর বহর সেনানিবাসে পৌঁছায়। সেখানে তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা তাঁকে সামরিক মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ কর্মদিবস।
দাপ্তরিক কাজ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাহিনীকে আরও পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
দিনটির উল্লেখযোগ্য আয়োজন ছিল দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদোন্নতি-পরবর্তী র্যাঙ্ক ব্যাজ প্রদান।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান: তাঁকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী: তাকেও মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতির পর নতুন র্যাঙ্ক ব্যাজ প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে যেতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশন—সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশের বাহিনী সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে সমন্বয় জোরদার করে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দিনের শেষভাগে তিনি বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিতে স্বাক্ষর করেন ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পর্যালোচনা করেন।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।










