শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের কাতারে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দিন খন্দকারের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দিন খন্দকারের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

বিশ্ববিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের যে ক’জন বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দিন খন্দকার। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও বিকিরণ প্রযুক্তি গ্রুপের প্রধান। টানা পাঁচ বছর (২০২১–২০২৫) Stanford University ও Elsevier যৌথভাবে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২% গবেষকের তালিকায় স্থান পাওয়া এই বিজ্ঞানী আজ বাংলাদেশের গর্ব। সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে তাঁর সঙ্গে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন সাংবাদিক আহমাদুল কবির। সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো

প্রশ্ন: আপনার বিজ্ঞানযাত্রার শুরুটা কীভাবে?

ড. মাঈন উদ্দিন খন্দকার: বিজ্ঞানী কেউ আকাশ থেকে নেমে আসেন না; কৌতূহল, অধ্যবসায় আর ব্যর্থতাকে জয় করার মানসিকতাই একজন মানুষকে বিজ্ঞানী করে তোলে। আমার শুরুটা বাংলাদেশের এক সাধারণ পরিবেশ থেকে। পড়াশোনার ভিত গড়ে ওঠে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। বিএসসি ও এমএসসি—উভয় পর্যায়েই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে আমি নিজেকে বড় পরিসরের জন্য প্রস্তুত করি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রশ্ন: উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক পথচলা কীভাবে শুরু হয়?

ড. খন্দকার: উচ্চশিক্ষার জন্য আমি দক্ষিণ কোরিয়ার Kyungpook National University-তে যাই। সেখানে পারমাণবিক ও বিকিরণ পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি সম্পন্ন করি। গবেষণার পথে অসংখ্য ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছি। ল্যাবে দিনের পর দিন কাজ করেও ফলাফল শূন্য এসেছে। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থ পরীক্ষাই আমাকে সঠিক উত্তরের দিকে এগিয়ে নিয়েছে।

পরবর্তীতে University of Malaya, International Atomic Energy Agency এবং RIKEN-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষকতার সুযোগ পাই। এখন পর্যন্ত আমার ৮০০-র বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং ২৪ হাজারেরও বেশি সাইটেশন রয়েছে।

প্রশ্ন: আপনার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী?

ড. খন্দকার: আমার গবেষণার মূল ক্ষেত্র পারমাণবিক বিজ্ঞান, বিকিরণ প্রযুক্তি, ন্যানোটেকনোলজি এবং পরিবেশগত তেজস্ক্রিয়তা। ক্যানসার চিকিৎসায় ‘ন্যানোপার্টিকেল রেডিওসেনসিটাইজেশন’ প্রযুক্তি নিয়ে আমার কাজ বিশেষভাবে আলোচিত। এই পদ্ধতিতে টিউমার কোষে ন্যানোপার্টিকেল প্রয়োগ করে কম বিকিরণ ডোজে বেশি কার্যকারিতা অর্জন সম্ভব, ফলে সুস্থ কোষের ক্ষতি কম হয়।

এছাড়া ‘থেরানোস্টিকস’ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছি, যেখানে একই সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্পন্ন করা যায়। পরিবেশ সুরক্ষায় খাদ্য ও পানিতে ভারী ধাতু শনাক্তকরণ, বিকিরণ দিয়ে পানি ভেঙে হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা এবং সীসামুক্ত বিকিরণ সুরক্ষা সামগ্রী উন্নয়নও আমার গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিজ্ঞান কেবল তত্ত্বে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না—মানুষের জীবন নিরাপদ ও সুস্থ করাই গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের উন্নয়নে বিজ্ঞানচর্চার ভূমিকা আপনি কীভাবে দেখেন?

ড. খন্দকার: সস্তা শ্রমের অর্থনীতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা সম্ভব নয়। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মালয়েশিয়ার উদাহরণ নিলে দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সংযোগ এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ একটি দেশকে দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ২০–৩০ বছরের সুস্পষ্ট বিজ্ঞান নীতি প্রয়োজন।

প্রশ্ন: নবীন গবেষকদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

ড. খন্দকার: গবেষণাকে কেবল ডিগ্রি নয়, জীবনদর্শন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। মৌলিক জ্ঞানের ভিত্তি মজবুত করতে হবে, আন্তর্জাতিক জার্নাল পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, দক্ষ মেন্টরের অধীনে কাজ করতে হবে এবং গবেষণায় সততা বজায় রাখতে হবে। গবেষণায় কোনো শর্টকাট নেই। ধৈর্য, ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার মানসিকতা এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতা থাকতে হবে।

প্রশ্ন: দেশের জন্য আপনার স্বপ্ন কী?

ড. খন্দকার: প্রবাসে কাজ করলেও আমার হৃদয় পড়ে আছে বাংলাদেশে। আমি দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে আধুনিক ল্যাব, বৈশ্বিক সংযোগ এবং শিল্প-একাডেমিয়া সমন্বয়ের মাধ্যমে গবেষণা এগিয়ে নেওয়া হবে। বাংলাদেশের তরুণদের মেধা বিশ্বমানের—প্রয়োজন শুধু সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনে বাংলাদেশ থেকেই বিশ্ব কাঁপানো বিজ্ঞানী বেরিয়ে আসবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকেই তিনি একটি সত্যিকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখেন। তাঁর বিশ্বাস—প্রতিদিনের ছোট কৌতূহলই একদিন বড় আবিষ্কারে রূপ নেয়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক