হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাঁদের অভিনন্দন জানাই, একই সঙ্গে যারা পরাজিত হয়েছেন তাঁদেরও অভিনন্দন। “হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য,”—বলেন তিনি।
সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, বিজয়ীরা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন, আবার যারা জয়ী হতে পারেননি তাঁদের প্রতিও প্রায় অর্ধেক ভোটার আস্থা রেখেছেন। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছেন, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।
একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে বিদায় নিতে এসে তিনি ৫ আগস্টের সেই আনন্দ ও মুক্তির দিনের কথা স্মরণ করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অচল রাষ্ট্রকে সচল করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮ মাস পর এখন তাঁর বিদায়ের সময় হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর সময় প্রশাসন সচল করাই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ বলে জানান তিনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। নির্বাচনে দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে মানুষ এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল। সেই সংকটময় সময়ে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার নিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর ভাষায়, সেই অঙ্গীকার রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে—সফলতার বিচার জনগণের ওপরই ন্যস্ত।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রের ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে না পারে। সর্বোপরি, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা—একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম।










