সুইডেনের নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন হতে চলেছে
ছবিঃ সংগৃহীত
সুইডেন সরকার দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব করেছে, যা পার্লামেন্টে পাস হলে আগামী ৬ জুন থেকে কার্যকর হবে। এএফপি জানিয়েছে, নতুন নিয়মের লক্ষ্য নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় বসবাসের সময়সীমা, আয়ের শর্ত ও জ্ঞান-ভিত্তিক পরীক্ষাকে কেন্দ্রীয় করা।
সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, সুইডিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আগে অন্তত আট বছর দেশটিতে বৈধভাবে বসবাস করতে হবে, যা বর্তমানে পাঁচ বছর। পাশাপাশি ন্যূনতম মাসিক আয়ের একটি সীমা ঠিক করা হবে এবং সুইডিশ ভাষা, সমাজ ও রাজনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে জ্ঞানের পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল বলেছেন, বর্তমানে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যত কঠোর কোনো শর্তই নেই, নতুন নিয়ম সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করবে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, কেউ যদি নাগরিক হতে চান, তবে সুইডেন রাজতন্ত্র না প্রজাতন্ত্র—এটা জানা যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশা।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, সুইডেন বা বিদেশে কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ড থাকলে নাগরিকত্বের জন্য অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হবে। কেউ যদি চার বছরের কারাদণ্ড ভোগ করে থাকেন, তবে তাকে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ আছে।
অভিবাসনবিরোধী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দাবি করছে, কয়েক দশকের ‘ব্যর্থ অভিবাসন নীতির’ ফলে দেশে গ্যাংভিত্তিক অপরাধ বেড়েছে এবং এই পরিস্থিতির জন্য উদার অভিবাসন নীতিই দায়ী। ২০১৫ সালে একাই প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার আশ্রয়প্রার্থী সুইডেনে আশ্রয় চেয়েছিলেন; এরপর থেকে যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, সবাই পর্যায়ক্রমে অভিবাসন ও আশ্রয় নীতিকে কঠোর করেছে।
সরকার সম্প্রতি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্যও নিয়ম আরও কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিয়েছে, যা আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংখ্যালঘু জোট সরকারটি মনে করছে, অভিবাসনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান তাদের জন্য নির্বাচনী সুবিধা আনতে পারে













