সমুদ্রের স্রোতে ভেসে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
শিক্ষাসফর ঘিরে ছিল আনন্দের আয়োজন। কিন্তু সমুদ্রের পানিতে নামার পর মুহূর্তেই সেই আনন্দ পরিণত হয় ভয়াবহ শোকে। ভারতের মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার দিভেগার সমুদ্রসৈকতে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে আট শিক্ষার্থী। নিহত সবাই ১৬ বছর বয়সী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, পুনের আলান্দির বেসরকারি কোচিং সেন্টার ‘উইনার্স একাডেমি’র ৪৮ সদস্যের একটি দল শিক্ষাসফরে দিভেগার সৈকতে গিয়েছিল।
দলে ছিল ২৫ জন ছেলে, ১৭ জন মেয়ে ও ছয়জন শিক্ষক। প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দলটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৈকতে পৌঁছায়।
পরে আট শিক্ষার্থী সমুদ্রে নামলে পানির গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা বুঝতে না পেরে তারা স্রোতে ভেসে যায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা সমুদ্রে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। দিভেগারের স্থানীয় ‘ভাউ মারুতি সালুনখে মহাকালী ওয়াটার স্পোর্টস’-এর মালিক ভাউ সালুনখে ও তাঁর সহযোগীরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। ঝুঁকি নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে তারা একে একে আট শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহগুলো স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দিঘি সাগরি বোরলি পঞ্চায়তন থানার পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন তানময় দত্তাত্রেয় ভাহিলে, সুমিত ভারত আহিরে, প্রণব রামদাস বনসোদে, কৈবল্য সতীশ ওয়াসানকার, রাজবীর যুবরাজ ভাহিলে, যশ কিরণ ওয়ানখেড়ে, সোহম তুকারাম ভান্ডওয়ালকার ও কৌশ্তুভ সন্দীপ দাউন্ড। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াও জানিয়েছে, নিহত আটজনই উইনার্স একাডেমির একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে মরদেহগুলো আলান্দিতে নিয়ে আসার জন্য স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সমন্বয় করছে বলে জানান তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী গিরিশ মহাজন। শিক্ষাসফরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা প্রণয়নের কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষাসফরের আয়োজন করা কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছেন।
এ ঘটনায় শিক্ষাসফরের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সফর আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া










