গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর করেছেন বলে জানা গেছে। গত রোববারের ওই সফরে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত সফরটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বৈঠকের কেন্দ্রে ইরান
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ও শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ইরানকে ঘিরে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলমান ইরান সংঘাতের মধ্যেও দুই দেশ পরস্পরের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর আকস্মিক ও গোপন আবুধাবি সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে আলোচনা
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর এমন গোপন সফর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু ও তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিযোগিতা রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে।
৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে আমিরাতের সতর্কতার দাবি
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় শুরু থেকেই এ ধরনের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
ইরান সংঘাতেও আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর গোপন আমিরাত সফর এবং দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককে ইরান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
















