পরিবারের পাঁচজনই প্রতিবন্ধী, এক মুঠো খাবারের জন্য প্রতিদিনের সংগ্রাম
একই পরিবারের পাঁচ সদস্যই প্রতিবন্ধী। তাঁদের মধ্যে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, একজন বাকপ্রতিবন্ধী এবং তিনজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। অভাব-অনটন ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই প্রতিদিন জীবনযাপন করছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের বন্যাতৈল গ্রামের এই পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী কাশিনাথ চৌধুরী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ৬৮ বছর বয়সী সুহাগী চৌধুরী শারীরিক প্রতিবন্ধী। ৬৫ বছর বয়সী বুদ্ধিশ্বর মন্ডলও শারীরিক প্রতিবন্ধী। ৬০ বছর বয়সী দ্রপতি চৌধুরী বাকপ্রতিবন্ধী এবং ৩৫ বছর বয়সী উত্তরা মন্ডল শারীরিক প্রতিবন্ধী।
পরিবারটির বসবাস একটি ছোট সরকারি ঘরে। পাঁচ সদস্যের মধ্যে তিনজন প্রতিবন্ধী ভাতা পান। তবে ভাতার সামান্য অর্থ দিয়ে পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কঠিন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
বুদ্ধিশ্বর মন্ডল জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন। তিনি একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। তাঁর স্ত্রী, স্ত্রীর বড় ভাই ও বড় বোন এবং তাঁর মেয়েও প্রতিবন্ধী। পরিবারের খরচ চালাতে তিনি বাজারে ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করেন। এই কাজ থেকে পাওয়া সামান্য আয় দিয়েই পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারের পাঁচ সদস্য প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে চিকিৎসা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে পরিবারটিকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তাঁদের জন্য বাড়তি সরকারি সহায়তার পাশাপাশি একটি উপযুক্ত বাসস্থানেরও প্রয়োজন রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের সঙ্গে আলোচনা করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। দেশে ফেরার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কল্লোল কুমার বসু বলেন, “পরিবারটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিবারটির প্রয়োজন বিবেচনায় সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে আসবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনযাপনের কষ্ট কিছুটা কমতে পারে।







