বার্সেলোনায় ছুরিকাঘাতে ১৬ বছরের কিশোর খুন : তোলপাড় ঘটনায় জটিল তদন্তে পুলিশ
জোরালো তদন্তে পুলিশ। পাশের ছবিতে নিহত কিশোরের রক্ত দেখা যাচ্ছে। ছবি- সংগৃহীত।
বার্সেলোনার সান্তস-মন্তজুইক এ ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় শহরজুড়ে তোলপাড় আলোচনা হচ্ছে এবং এ নিয়ে মসস দ’এস্কুয়াদ্রা একটি জটিল তদন্ত শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় সংগঠিত হত্যাকান্ডের ঘটনাটি প্রথম দিকে কিশোর গ্যাংগুলোর মধ্যে হঠাৎ সৃষ্ট সংঘর্ষ হিসেবে মনে করা হলেও, পরে তা অনেক বেশি গুরুতর ঘটনায় রূপ নেয়। ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন (DIC)-এর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা।
উক্ত ঘটনায় নিহত কিশোরটি হন্ডুরাস বংশোদ্ভূত। ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যপুরি আঘাতের ঘটনায় একটি গুরুতরভাবে কিশোরটির যকৃতে লাগার কারণে মৃত্যু ঘটেছে বলে জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রে। এ ঘটনায় আরো এক কিশোর ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি মারামারি থেকেই এই হামলার সূত্রপাত। দুই কিশোর আন্তোনি ক্যাপমানি সড়কে আহত হয় এবং এরপর তারা এক বন্ধুসহ পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নিহত কিশোরটি মারাত্মক আহত হয়ে সান্তা এউলালিয়া মেট্রো স্টেশনের কাছে পৌঁছে লুটিয়ে পড়ে।
বার্সেলোনা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (AIC) ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনাস্থলটি হসপিতালেত দে লোব্রেগাত সীমান্ত থেকে মাত্র একটি সড়ক দূরে বার্সেলোনার শেষ প্রান্তে। পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে—ঘটনার পর কিছু তরুণ মেট্রো স্টেশনের কাছে উপস্থিত ছিল এবং সেখানেই মসস দ’এস্কুয়াদ্রা ও একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে।
মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ স্পষ্ট ছিল, পরে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা পানি দিয়ে ধুয়ে দেয়।

প্রথমে প্রতিবেশী ও পথচারীদের ধারণা ছিল এটি প্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্রুপের মধ্যে হঠাৎ সৃষ্ট মারামারির ফল। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে অন্য কিছু। পুলিশের মতে, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল এবং হত্যাকাণ্ডটি মূলত অ্যাডজাস্টমেন্ট বা প্রতিশোধের অংশ। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি স্কুটার (প্যাটিনেট) ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে। এখন পুলিশ চেষ্টা করছে জানতে আসলেই কি ঘটনাটি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কি না।
এখনও পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা এখনো পলাতক। তদন্তকারীরা প্রত্যেককে শনাক্ত করা ও কার কী ভূমিকা ছিল তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। যদিও প্রমাণ সংগ্রহ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, তবুও কিছু সাক্ষী সহযোগিতা করতে অনীহা দেখাচ্ছে। পুলিশ সন্দেহ করছে, ভুক্তভোগীর আশেপাশের কিছু মানুষ তথ্য গোপন করছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ জোরালো তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশেপাশে পুরো সময় বিশেষ করে রাতে অনেক পুলিশ সদস্যর উপস্থিতি ও তাদের সতর্ক পাহারা লক্ষ্য করা গেছে।

হত্যাকাণ্ডটি যে পরিকল্পিত ছিল তা নিশ্চিত হওয়ার পর বার্সেলোনায় কিশোর সহিংসতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও পুলিশ মসস দে এস্কুয়াদ্রা টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে, তবুও স্থানীয়রা মনে করছেন এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে এবং শুধু পুলিশি টহল নয়, আরও কাঠামোগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
গবেষকদের সবচেয়ে বেশি চিন্তিত করছে গ্রুপভিত্তিক সহিংসতা এবং এর সাথে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার। এ কারণেই কাতালোনিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে “ডাগা পরিকল্পনা” (এল প্লান দে ডাগা) চালু করেছে, যা মসস ও গোয়ারর্দিয়া উরবানা যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে মেট্রো স্টেশন, রাতের আড্ডাস্থল ও ভিড় এলাকায় তল্লাশি বাড়ানো হচ্ছে, যাতে ছুরি, চাকু বা মাচেটের মতো অস্ত্র বহন ঠেকানো যায়।
উল্লেখ্য, শুধু গত বছরেই পুলিশের হাতে জব্দ হয়েছে ১০,০০০-এরও বেশি ধারালো অস্ত্র—যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা।













