ফুয়েগো আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, গুয়াতেমালার তিন জেলায় রেড অ্যালার্ট
গুয়াতেমালার সক্রিয় ফুয়েগো আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ায় দেশটির সাকাতেপেকুয়েজ, এসকুইন্তলা ও চিমালতেনাঙ্গো জেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। লাভা, আগ্নেয় ছাই ও গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার থেকে আগ্নেয়গিরিটি থেকে বিপুল পরিমাণ ছাই, উত্তপ্ত শিলা ও গ্যাস নির্গত হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি, আবহাওয়া ও হাইড্রোলজি ইনস্টিটিউট। এতে আশপাশের তিনটি জেলার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে এসকুইন্তলা ও আলোতেনাঙ্গোকে সংযুক্তকারী জাতীয় সড়ক-১৪ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পাশাপাশি বাতাসের গতিপথ পরিবর্তিত হলে রাজধানীর লা অরোরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় গুয়াতেমালায় অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা, পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ এবং যাতায়াতে সম্ভাব্য বিলম্বের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই আগ্নেয়গিরিটির তৎপরতা বাড়তে থাকায় আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ ও ব্যাপক ছাইপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
রাজধানী গুয়াতেমালা সিটি থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ফুয়েগো মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে সক্রিয় ও বিপজ্জনক আগ্নেয়গিরিগুলোর একটি।
২০১৮ সালের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনায় আরও শত শত মানুষ নিখোঁজ হন এবং হাজার হাজার বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।












