অণ্ডকোষ চেপে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বেলা ২টার দিকে বরিশাল নগরের সদর রোড এলাকার ‘টপ টেন’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। লিটুর বাড়ি অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের অদূরে কাটপট্টি সড়কে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ জুন সন্ধ্যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন নগরের সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে প্রবেশ করে কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর করেন। পরে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চার যুবক আব্দুল আজিজের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তাকে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে অণ্ডকোষ চেপে ধরে স্বাক্ষর আদায় করেন বলে অভিযোগ। মারধরের সময় আব্দুল আজিজ ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে চিৎকার করলে আরেক ব্যক্তি কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে লিটুর সঙ্গে থাকা অন্যরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেন। পরে চেক ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের ছবিও তোলা হয়।
আব্দুল আজিজ হাওলাদারের দাবি, লিটু একসময় অগ্রণী হাউজিংয়ের অংশীদার ছিলেন। তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি বুঝিয়ে দেওয়া এবং সেই জমি বিক্রিও সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের কাছে তার কোনো পাওনা নেই- এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামাও রয়েছে। এরপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। এরপর জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি জানিয়ে চেকগুলোর বিষয়ে অভিযোগ করায় কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, আদালত তার নালিশি মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজটি তিনিই প্রকাশ করেছেন বলেও স্বীকার করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, সেদিন কার্যালয়ে যারা গিয়েছিলেন, তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তার দাবি, আব্দুল আজিজ পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং এ বিষয়ে পরিচালকেরা শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আব্দুল আজিজ শনিবার রাতে থানায় এসে আদালতে মামলা করার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কপি রোববার থানায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।











