সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ২৫ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা

প্রবাহ বাংলা ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৯:১১ পিএম
ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ২৫ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা

দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই আগ্রাসনের পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড ও উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র অঞ্চলে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জ্বালানি মার্কেট। ইরান বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় হাহাকার শুরু হয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকায়। সামগ্রিক বিবেচনায় এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে ২১ হাজার কোটি ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় ২৫দশমিক ৬৯ ট্রিলিয়ন বা ২৫ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান মুদ্রা বাজার অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২২ দশমিক ৩৫২ টাকা ধরলে এ সংখ্যা পাওয়া যায়।

পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক ও রাজস্ব বিশ্লেষক কেন্ট স্মেটার্সের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে মার্কিন অর্থনীতির ২১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

স্মেটার্স সম্প্রতি বলেছেন, চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে বাণিজ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও গ্যাসোলিনের দামে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, যদিও অর্থনীতির ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব কতটা সুনির্দিষ্টভাবে পড়বে তা অনুমান করা কঠিন। তার বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ১১৫ বিলিয়ন ডলার, তবে সংঘাতের ধরণ ও স্থায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে এই অংক ৫০ বিলিয়ন থেকে ২১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধব্যয় গণনার ক্ষেত্রে আমার একটি সমস্যা হলো—তারা বিকল্প পরিস্থিতি বা ‘কাউন্টারফ্যাকচুয়াল’ বিষয়টিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে। ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত, তবে পরে আমাদের সামরিক খাতে এবং এমনকি শহরগুলো পুনর্গঠনে আরও অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে যুদ্ধের অর্থনৈতিক হুমকির কথা স্বীকার করেছেন এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো দিয়ে চলাচলকারী জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য সরকারি বীমা ও প্রয়োজনে নৌ-এসকর্ট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিতে শুরু করবে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্বীকার করেন, যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ‘কিছু সময়ের জন্য’ বেশি থাকতে পারে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সংঘাত শেষ হলে ‘এই দাম আগের চেয়েও নিচে নেমে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

মঙ্গলবার লেনদেন শেষে বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, জাতীয় পর্যায়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ১০ সেন্টের বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা হবে তা মূলত সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর নির্ভর করবে। গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভ-এর নীতি ও অ্যাডভোকেসি প্রধান এবং বাইডেনের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অ্যালেক্স জ্যাকুয়েজ বলেন, বাজার বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকিকে বেশ অবমূল্যায়ন করছে এমন একটি সংঘাত যা দ্রুত শেষ হবে না, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক হবে না এবং সবকিছু সময়মতো স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরবে না।

অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি, এই বিশাল সামরিক অভিযানে আরও ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ব্যয় হতে পারে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, কতদিন চলবে তা ‘এই মুহূর্তে জানা সম্ভব নয়’ বলে কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন। তিনি গত ২ মার্চ লিখেছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এবং টেকসই শান্তি চায়, তবে প্রয়োজনীয় সামরিক অভিযানের পূর্ণ পরিধি ও স্থায়িত্ব এই মুহূর্তে জানা সম্ভব নয়।

তিনি এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এই বোমাবর্ষণ ‘চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ’ স্থায়ী হতে পারে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহর শতবর্ষে জিবন অবসান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহর শতবর্ষে জিবন অবসান

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ-এর স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী আর নেই। শতবর্ষ বয়সে তিনি মারা গেছেন।

সোমবার কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিতি হাসমাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির।
এদিকে সংসদে একটি টাউনহল অধিবেশন চলাকালে তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হলে উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। পরে তার সম্মানে সংক্ষিপ্ত ইসলামী দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তুন ড. সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী হিসেবে দেশটির জনজীবনে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি চিকিৎসক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে হাইকমিশনের বিশেষ কনস্যুলার সেবা প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ এম
মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে হাইকমিশনের বিশেষ কনস্যুলার সেবা প্রদান

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোরগোড়ায় কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দিতে মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর। দুই দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট, পাসপোর্ট বিতরণসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হয়।

২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর পেনাংয়ের জর্জ টাউনের লিগা মুসলিম কমিউনিটি হলে এ বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের একটি প্রতিনিধি দল ক্যাম্প পরিচালনা করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

দূরবর্তী এলাকা থেকে কুয়ালালামপুরে না গিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে এ উদ্যোগে আগ্রহ দেখা যায়। বিশেষ করে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবার জন্য কর্মব্যস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন কমেছে।

ক্যাম্পে নতুন পাসপোর্টের জন্য এনরোলমেন্ট এবং প্রস্তুত পাসপোর্ট বিতরণের পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন কনস্যুলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা বক্তব্য প্রকাশ, শেয়ার কিংবা প্রচারের আগে এর সত্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার জন্যও প্রবাসীদের সচেতন করা হয়।

হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা আরও সহজলভ্য করতে বিভিন্ন রাজ্যে এ ধরনের বিশেষ সেবা কার্যক্রম আয়োজনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

হাইকমিশনের এমন উদ্যোগের ফলে কুয়ালালামপুরের বাইরে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত কনস্যুলার সেবার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ বা বিশেষ ক্যাম্প আয়োজন অব্যাহত থাকলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপকৃত হবেন।

মালয়েশিয়ায় মতবিনিময় সভায়-জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ এম
মালয়েশিয়ায় মতবিনিময় সভায়-জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। শুধু রেমিট্যান্স নয়, প্রবাসীদের মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য ‘ব্রেইন ড্রেইন’ নয়, বাংলাদেশ এখন ‘রিভার্স ড্রেইন’ চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারের নতুন যাত্রায় বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সফল উদ্যোক্তা ও নতুন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

শনিবার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়াভিত্তিক শক্তিশালী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের দেশের নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। মালয়েশিয়ায় ১৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে অদক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্রবাসীদের দেশে ফিরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রিভার্স ড্রেইন। দেশের মেধাবী ও দক্ষ মানুষ বিদেশে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।’

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনশক্তি রপ্তানির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত। তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শ্রম ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’

প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ তাদের কল্যাণে বিভিন্ন জনহিতকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কার্ডটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি কমিয়ে তাদের জন্য সহজ, নিরাপদ ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চেক-ইন ও বোর্ডিং এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রবাসীদের জন্য পৃথক আবাসন ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগের কথা জানিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সিলেট থেকে এ কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রবাসীদের বিনিয়োগ সহজতর করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য দেশে বিশ্বমানের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের ভিশন রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রবাসীদের বিনিয়োগ, মেধা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মতবিনিময় সভায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত একাডেমিয়া, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও নারী উদ্যোক্তাসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

তারা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, পাসপোর্ট ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা সহজীকরণ এবং প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান বাদল, সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব আলম শাহ, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সহসভাপতি তালহা মাহমুদসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও ছাত্র প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা, মালয়েশিয়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক