চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী ঢল, তারেক রহমানকে বরণে ১০ লাখ নেতাকর্মীর প্রস্তুতি
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে। বিএনপি নেতাদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু এ বিভাগ থেকেই ৭ থেকে ১০ লাখ মানুষ ঢাকায় সমাবেশস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা মিলিয়ে অন্তত এক লাখ নেতাকর্মী ঢাকায় যাওয়ার টার্গেট ধরা হয়েছে। দলীয় উদ্যোগে ভাড়া করা বিশেষ ট্রেন, বাস, মাইক্রোবাস ও হাইয়েসে করে কয়েক দিন ধরেই নেতাকর্মীরা রাজধানীতে যাচ্ছেন, পাশাপাশি অনেকেই নিজ উদ্যোগেও রওনা হচ্ছেন।
জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন, এটি হতে পারে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক জমায়েত, যেখানে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল জানিয়েছেন, বিভাগীয় সব সাংগঠনিক জেলা মিলিয়ে ৭ থেকে ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সমন্বয় চলছে। তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো কর্মসূচির তুলনায় এবার ১০ গুণ বেশি সাড়া মিলছে; তার নির্বাচনী এলাকা হাটহাজারী থেকেই একশোর বেশি বাস ও ৮৫টি মাইক্রোবাস ভাড়া করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান জানান, মহানগর থেকে অনেকেই ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছে গেছেন, বাকি অনেকে পথে আছেন। দলের পক্ষ থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেনের সব আসন, আরেকটি ট্রেনের অর্ধেক আসন বুকিং নেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি ১০০টি বাস ও দেড়শো মাইক্রো/হাইয়েস ভাড়া করা হয়েছে, ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় আরও শতাধিক বাস–মাইক্রো ঢাকায় যাবে।
নেতারা জানান, সমাবেশে যেতে যে হারে মানুষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন, সেই তুলনায় পরিবহন যোগাড় করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের ভাষায়, গাড়ি না পাওয়ায় প্রত্যাশিত সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব না হলেও নেতাকর্মীদের উৎসাহ–উদ্দীপনা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
কক্সবাজার থেকে আগত এক ছাত্রদল নেতা জানান, দীর্ঘদিন ‘ফ্যাসিবাদী বাধা’র কারণে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেননি, এখন তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, ১৭–১৮ বছর পর নেতাকে সামনে দেখতে পারার আকাঙ্ক্ষায় সাধারণ মানুষের আনন্দ আর উচ্ছ্বাস চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।













