সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ১০
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুপুর পর্যন্ত শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) দুপুরে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মিয়া এবং শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এবং উলাইল এলাকার আল-মুসলিম কারখানার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এ সময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে সংঘর্ষ চলাকালে শ্রমিকদের শান্ত করতে গেলে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। পরে আহত ওসিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হন ৭১ টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি রায়হান বিন আমিন, ক্যামেরাপারসন উজ্জ্বল হোসেন এবং স্টার নিউজের সাভার প্রতিনিধি সোহান সিরাজি। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাভারে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। সকাল থেকেই আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বিভিন্ন কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকরা।
বেলা আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে শ্রমিকরা রাস্তায় নামার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ সময় আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মবিন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এর আগেও তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মিয়া জানান, শ্রমিকদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের তৎপরতায় সাভারের পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও যান চলাচল শুরু হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের আওতাধীন সমস্ত এলাকা স্বাভাবিক আছে। কোথাও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা নেই। সকালে শ্রমিকরা কারখানায় ঢুকলেও বহিরাগতদের ইন্ধনে কাজ বন্ধ করে দেয়।
পরে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে কারখানাগুলো ছুটি দিয়ে দেয়। সাভার এলাকায় আল-মুসলিম থেকে পদ্মার মোড় পর্যন্ত রাস্তায় তারা একটু পিকেটিং করার চেষ্টা করেছিল, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তা দূর করেছি। ঢাকা জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি একযোগে কাজ করছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।










