বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মালয়েশিয়ায় তিন বিশেষ অভিযানে ৪ হাজার ১৬৮ আটক

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পিএম
অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মালয়েশিয়ায় তিন বিশেষ অভিযানে ৪ হাজার ১৬৮ আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের (পিএটিআই) কর্মসংস্থান ও অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তিনটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন বিভাগ। কৃষি খাত, ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে কাজ করার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ‘অপ হিজাউ’, ‘অপ জাজা’ ও ‘অপ বেলাঞ্জা’ নামে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন ইসমাইল নাসুশন জানান, অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি ও অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধে সরকার নিয়মিতভাবে নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অপ হিজাউ’ অভিযানের আওতায় কৃষি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ফসলের খামার, পশুপালন কেন্দ্র ও নার্সারিতে নজরদারি করা হচ্ছে। ‘অপ জাজা’ অভিযানে রাতের বাজার, কৃষিপণ্যের বাজার, পাইকারি বাজার, ফলের দোকান এবং সড়কের পাশের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘অপ বেলাঞ্জা’ অভিযানের আওতায় সুপারমার্কেট, মুদি দোকান, আসবাবপত্রের দোকানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সংসদে লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। বিরোধী জোটের জারলুন আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল গনি আহমদের মালয়েশিয়ার কৃষি, খামার ও মুদি দোকান পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশি নাগরিক এবং অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন বিশেষ অভিযানে মোট ২ হাজার ৬৪৪টি অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এসব অভিযানে ১৯ হাজার ১৯২ জনকে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৬৮ জন অবৈধ অভিবাসী এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৯৯ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি, তল্লাশি ও আইন মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অভিবাসন বিভাগের পরিদর্শন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে এ ধরনের ১১ হাজার ৭৯০টি পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশনের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে অভিবাসন আইন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সময়ে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ৬৮৫টি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্থানে সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ এবং বিদেশি নাগরিকদের বেআইনিভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধ করা।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়িয়ে দেশজুড়ে ধারাবাহিক, কার্যকর ও সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন বিভাগ।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসী কর্মী নিয়োগে যৌথ নজরদারির উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসী কর্মী নিয়োগে যৌথ নজরদারির উদ্যোগ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে অভিবাসন ব্যবস্থায় যৌথ পরিদর্শন ও নজরদারি চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনের (সিএইচওজিএম) ফাঁকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসানের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও ন্যায্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে যৌথ পরিদর্শন ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে শ্রমিক অভিবাসনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দ্রুত একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সফরের অংশ হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম শিগগিরই ঢাকা সফর করবেন।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের (আসিয়ান) সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের আশ্বাস দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টায়ও মালয়েশিয়া সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ প্রেক্ষাপটে যৌথ পরিদর্শন ও নজরদারির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা, মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশসহ ৯ দেশের ১৮২ অভিবাসীকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২০ পিএম
বাংলাদেশসহ ৯ দেশের ১৮২ অভিবাসীকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন

মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক অভিবাসী (বিদেশি) নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে জোহর রাজ্যের পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপো থেকে ৯টি দেশের মোট ১৮২ জন আটক ব্যক্তিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত পাঠানো ১৮২ জনের মধ্যে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার ৮৫ জন, বাংলাদেশের ৪৫ জন, মিয়ানমারের ২৫ জন, পাকিস্তানের ১৫ জন, ভারতের ৩ জন, থাইল্যান্ডের ৩ জন, কম্বোডিয়ার ৩ জন, শ্রীলঙ্কার ২ জন এবং চীনের ১ জন নাগরিক।

অভিবাসন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ ব্যবহার করে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশের বৈধ পাসপোর্ট ছিল। তবে যাঁদের পাসপোর্ট ছিল না, তাঁদের কয়েকজনকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে জরুরি ভ্রমণ নথি বা ‘ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ দেওয়া হয়। এসব নথির ভিত্তিতে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বিভাগটি আরও জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো প্রত্যেক ব্যক্তির নাম অভিবাসন বিভাগের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনুযায়ী তাঁরা কোনো উদ্দেশ্যেই পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

এদিকে আটক ব্যক্তিদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে বিশেষ সেবাকেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। সেখান থেকে দেশে ফেরার বিমান টিকিট কেনাসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে। এ জন্য কোনো ধরনের সেবামূল্য বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হয় না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপোর রেকর্ড ও প্রত্যাবাসন ইউনিটের ০৭-৬৯৯৩৫৪০ নম্বরে যোগাযোগ অথবা অনলাইন অনুসন্ধান ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অভিবাসন বিভাগ।

উল্লেখ্য, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ফেরত পাঠানো ১৮২ জনের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৪৫, যা মোট প্রত্যাবাসিত ব্যক্তির প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

মালয়েশিয়ায় ৩ডি খাত ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৫ পিএম
মালয়েশিয়ায় ৩ডি খাত ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

মালয়েশিয়াকে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে মূলত নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন (৩ডি) কাজের ক্ষেত্রেই বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহরি আবদুল গনি।

তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। দেশটির শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় এটি একটি বড় ও জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিদেশি কর্মীদের মূলত ৩ডি খাতের কাজে নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
২ নভেম্বর, দেওয়ান রাকিয়াতে (মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) এক বক্তব্যে জোহরি আবদুল গনি বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৬ লাখ বিদেশি কর্মী রয়েছেন। দেশটির ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১৩এমপি) অনুযায়ী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে কমে আসার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটেনি।

মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় ১০ থেকে ২০ বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের চাহিদা জানিয়ে আসছে। ফলে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকনির্ভরতা বজায় রেখেছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা। তাই বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা মূলত নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বাকরি আসনের সংসদ সদস্য তান হং পিনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সংসদ সদস্য তান বলেন, দেশটির অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। তবে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে এখনো কিছু অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক।

তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য আবেদন করা অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কম খরচে শ্রমিক পেতে ইন্দোনেশিয়া কিংবা ভিয়েতনামে কারখানা স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পরামর্শ মালয়েশিয়ার শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে কারখানা ও উদ্যোক্তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তান হং পিন জানতে চান, বিভিন্ন শিল্প খাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা সম্প্রসারিত হয়েছে, তা মূল্যায়নে মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেবে কি না। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করেও প্রয়োজনীয় শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, তাদের ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নীতিতে আরও নমনীয়তা আনা হবে কি না, সে বিষয়েও তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর জোহরি আবদুল গনি জানিয়েছিলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন তাদের ৩ডি কাজের জন্য বিদেশি শ্রমিক প্রয়োজন।

এ ছাড়া ৩ডি খাতের বাইরে অন্য কোনো পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাবিত বেতন এবং ওই পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার বিবরণ দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব শ্রমিক চাহিদা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। অন্যথায় শ্রমিক সংকটের কারণে মালয়েশিয়ার উৎপাদন ও বিনিয়োগ খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক