শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

১৯৪২ সালের পর এমন বন্যা দেখেনি তুরস্ক, ইস্তাম্বুলে প্রাণহানি ৪

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ এম
১৯৪২ সালের পর এমন বন্যা দেখেনি তুরস্ক, ইস্তাম্বুলে প্রাণহানি ৪

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে গত ৮০ বছরের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও পার্ক। বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে অসংখ্য যানবাহন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ১৯৪২ সালের পর দেশটিতে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখা যায়নি বলেও জানান তিনি।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ৪৮ ঘণ্টায় ইস্তাম্বুলে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ঐতিহাসিক গড় বৃষ্টিপাতের সম্মিলিত পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের এই শহরে অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

শুক্রবার ইস্তাম্বুলের সারিয়ার এলাকায় একটি সেতুর নিচ থেকে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বন্যায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে ঝড়ের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

বন্যার পানিতে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে। তলিয়ে গেছে সড়ক ও পার্ক। প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া অনেক যানবাহন পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে নেমে এক জায়গায় স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সারিয়ার এলাকার আয়াজাগায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিফতচি জানিয়েছিলেন, বন্যার পর চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এর আগে শুক্রবারই একজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।

মন্ত্রী আরও জানান, বন্যাসংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ৯ হাজার ৮৫০টি অভিযোগ ও প্রতিবেদন জমা পড়েছে। ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় ইস্তাম্বুলে ৪৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম।

নদী ও জলপথের কাছাকাছি অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্যার তীব্রতা বাড়িয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।

আগামী মাসে তুরস্কের আনতালিয়ায় জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন মুরাত কুরুম। বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কোনো বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য।

কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত অন্তত ১৮, আহত বহু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩১ এম
কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত অন্তত ১৮, আহত বহু

কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপূজার মণ্ডপে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও পদদলনের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে ঢোকার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আহত অন্তত ৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতালে পৌঁছেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে চোরবাগানের পূজামণ্ডপে প্রবেশের চেষ্টা করেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকে। এ সময় ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি শুরু হলে কয়েকজন পড়ে যান। পরে সেখানে পদদলনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মণ্ডপের কাঠামো কিংবা প্রবেশপথের নকশার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে থাকতে পারে। মণ্ডপে প্রবেশের পর একটি বৃত্তাকার উঁচু করিডোর দিয়ে ঘুরে বের হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ওই করিডোরেই বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে বলে সূত্রের দাবি।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, সময়মতো পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি।

পূজার আয়োজক বিকাশ দাস বলেন, কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই আপাতত তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

তবে ভিড়ের চাপে পদদলনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই প্রয়োজন।

মসজিদে বোমা হামলার প্ল্যান থেকে মার্কিন সেনার ইসলাম গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ পিএম
মসজিদে বোমা হামলার প্ল্যান থেকে মার্কিন সেনার ইসলাম গ্রহণ

একসময় মুসলিমদের প্রতি তীব্র ঘৃণা পোষণ করতেন তিনি। পরিকল্পনা করেছিলেন একটি মসজিদে বোমা হামলা চালানোর। অথচ সেই মসজিদে গিয়েই মুসলিমদের আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণের মুখোমুখি হন তিনি। বদলাতে শুরু করে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। যে ইসলামকে তিনি সন্ত্রাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেন, সেই ইসলাম সম্পর্কে জানতে গিয়ে একপর্যায়ে ধর্মটি গ্রহণ করেন সাবেক মার্কিন সেনা রিচার্ড ‘ম্যাক’ ম্যাককিনি। তাঁর জীবনের এই পরিবর্তনের গল্প উঠে এসেছে অস্কার মনোনয়ন পাওয়া প্রামাণ্যচিত্র স্ট্রেঞ্জার অ্যাট দ্য গেট-এ।

 

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিচার্ড ম্যাককিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মুনসি শহরের বাসিন্দা। মার্কিন সামরিক বাহিনীতে প্রায় ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা এই ব্যক্তি একসময় মুসলিমদের সম্পর্কে গভীর নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন। সেই বিদ্বেষ থেকেই শহরের একটি মসজিদে বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানো।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

 

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে মসজিদটি সম্পর্কে জানতে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রিচার্ড। তাঁর ধারণা ছিল, মসজিদে গেলে মুসলিমদের সম্পর্কে নিজের নেতিবাচক ধারণার পক্ষে প্রমাণ পাবেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন।

 

মসজিদে উপস্থিত মুসলিমরা তাঁকে শত্রু হিসেবে দেখেননি। বরং আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন এবং তাঁর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেন। তাদের অতিথিপরায়ণতা ও মানবিক ব্যবহার রিচার্ডকে নিজের বিশ্বাস ও পূর্বধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। যাঁদের প্রতি তাঁর মনে এত দিন ঘৃণা ও অবিশ্বাস ছিল, তাঁদের মধ্যেই তিনি দেখতে পান আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা।

 

এই অভিজ্ঞতার পর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর মধ্যে। শুরু করেন ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা। পবিত্র কোরআনের ইংরেজি অনুবাদ পড়াসহ ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। ধীরে ধীরে মুসলিমদের সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘদিনের ধারণা বদলাতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

 

রিচার্ডের জীবনের এই পরিবর্তন নিয়ে নির্মিত স্ট্রেঞ্জার অ্যাট দ্য গেট প্রামাণ্যচিত্রটি ২০২৩ সালে অস্কারের সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে মনোনয়ন পায়। এতে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে একটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি সেখানকার মুসলিমদের আন্তরিকতার সংস্পর্শে এসে নিজের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলেন।

সকালের নাশতা তৈরি করি, থালাবাসনও ধুই : জাপান প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম
সকালের নাশতা তৈরি করি, থালাবাসনও ধুই : জাপান প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, নারী হওয়ার কারণে পুরুষ পূর্বসূরিদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করার করতে হয় । তাকাইচির এই মন্তব্য দেশটিতে লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।

বুধবার পার্লামেন্ট সেশনে বক্তৃতাকালে সানায়ে তাকাইচি বলেন, সকালে উঠে আমি গোসল করি, নাশতা তৈরি করি, থালাবাসনও ধুই, এরপর মেকআপ করি। এসব কাজের কারণে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়ে আমার তিন-চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির এই বক্তব্য সেকেলে লিঙ্গবৈষম্যমূলক সামাজিক মূল্যবোধ এবং অতিরিক্ত কাজের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে বলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবীরাসহ বিভিন্ন অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ করেছেন, ঘরের কাজের অজুহাত দিয়ে সময় ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বা কাজের অহেতুক দীর্ঘসূত্রতাকে ঢেকে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এছাড়াও তাকাইচি দৈনিক মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর কথা প্রকাশ করায় কর্ম ও জীবনের ভারসাম্য নষ্টের ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন কেলেঙ্কারির কারণে তার নবনিযুক্ত কৃষিমন্ত্রী কাজুও ইয়ানার পদত্যাগ করাটাও প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ওপর অতিরিক্ত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

জাপান ইনোভেশন পার্টির নেতা ফু মিতাকে ফুজিতা সংসদীয় অধিবেশনের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা কমানোর পরামর্শ দেন এবং এনএক্সজেআই রিসার্চের গবেষণার বরাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে শেফ ও গৃহকর্মী নিয়োগের প্রস্তাব দেন যাতে তিনি কেবল রাষ্ট্রীয় কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক