দিল্লির বিক্ষোভ রুখতে ট্রেন বাতিল, ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধী রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলোর পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্র সরকার। আন্দোলনকারীরা যাতে রাজধানীতে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দিল্লিগামী একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল, গন্তব্য পরিবর্তন এবং মেট্রো পরিষেবা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সরকারের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, ‘মাছি মারতে কেউ হাতুড়ি চালায় না!’
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানান, নিরাপত্তার অজুহাতে পুরো রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা স্তব্ধ করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ জীবিকা ও জরুরি প্রয়োজনে দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় যাতায়াত করেন। মেট্রো চলাচলের মাত্রা কমানো গেলেও পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা অবাস্তব। আদালত সড়ক ও ট্রেন চলাচলের ওপর আরোপিত এসব কঠোর বিধিনিষেধ অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করে নতুন নির্দেশনা জারির নির্দেশ দেন।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনের শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির ‘যন্তর মন্তরে’ জমায়েতের ডাক দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলন প্রতিহত করতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা হাওড়া ও শিয়ালদহ রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনও বাতিল করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন রাজ্য থেকে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিনগামী বহু ট্রেন বাতিল কিংবা অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেন থামিয়ে তল্লাশি ও আটকের খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রদেশের ইটারসী জংশনে গোয়া এক্সপ্রেস থামিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এআইএসএফ) নেতাকর্মীদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সরকারের এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। তাঁর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিব্বল শুনানি করেন। তিনি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘিরে গণপরিবহন ও ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া নাগরিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাতের সামিল।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের কঠোর বার্তার পর ভারতের কেন্দ্রীয় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তিনি শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আকস্মিক ট্রেন বাতিল ও যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ায় বর্তমানে পুরো দেশজুড়ে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।









