সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখোমুখি ১১১ বাংলাদেশি, মিশর উপকূলে উদ্ধার

আফছার হোসাইন, মিশর প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪২ পিএম
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখোমুখি ১১১ বাংলাদেশি, মিশর উপকূলে উদ্ধার

লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে অনিয়মিত পথে গ্রিস যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাবারের নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন শতাধিক বাংলাদেশি। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্নের ইউরোপযাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয় জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াইয়ে। প্রচণ্ড ঝড়, উত্তাল সাগর,নৌকায় পানি প্রবেশ ও ইঞ্জিন বিকল হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পড়েন তারা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর পৃথক তিনটি বিপদাপন্ন নৌযান থেকে মোট ১১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ। পরবর্তীতে তাদের মিশরের পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াত বন্দরে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৫৮ জন পোর্ট সাঈদ এবং ৫৩ জন দামিয়াত নিরাপত্তা কেন্দ্রে রয়েছেন। মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের এক কর্মকর্তা সম্প্রতি দুই দিনব্যাপী পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াত সফর করে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি তাদের সমুদ্রযাত্রা, বিপদের মুহূর্ত ও উদ্ধারের বিবরণ সংগ্রহ করেন। এ সময় ওই কর্মকর্তা নিজের ব্যক্তিগত মুঠোফোন থেকে প্রত্যেককে নিজ নিজ পরিবারে ফোন করে কথা বলার সুযোগ করে দেন।

ঝড়ের মধ্যে প্রহর গুণছিলেন মৃত্যুর

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

পোর্ট সাঈদে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি প্রতিনিধিকে জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর একটি রাবারের নৌকায় তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়েন। উত্তাল সাগরে প্রায় এক দিন ও এক রাত ভেসে ছিল তাদের নৌকাটি। চারপাশে অন্ধকার আর বিশালাকার ঢেউয়ের মাঝে যেকোনো মুহূর্তে নৌকা ডুবে যাওয়ার আতঙ্কে ছিলেন তারা। শেষপর্যন্ত ‘KINGSTON’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে তারা সাহায্যের আকুতি জানান। জাহাজটি মিশরের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে পোর্ট সাঈদ বন্দরে নিয়ে আসে।

ইঞ্জিন বিকল ও নৌকায় ছিদ্র, নিখোঁজ ৩৯

পোর্ট সাঈদ নিরাপত্তা কেন্দ্রে থাকা অপর তিন বাংলাদেশি জানান, তারা বাংলাদেশি, মিশরীয় ও সুদানি নাগরিকসহ মোট ৫৬ জন একটি নৌকায় তবরুক থেকে রওনা হয়েছিলেন। সাগরে ঢোকার পরপরই ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে নৌকায় ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। তাদের জরুরি বার্তা পেয়ে ‘MSC VIRGINIA’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এগিয়ে আসে এবং ৩ বাংলাদেশিসহ মোট ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নৌকায় থাকা অপর ৩৯ জন যাত্রী এখনও ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রয়েছেন।

ডুবে যাওয়ার ১০ মিনিট আগে উদ্ধার

দামিয়াতে থাকা ৫৩ বাংলাদেশির অভিজ্ঞতা আরও শিউরে ওঠার মতো। তারা জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর ৫৩ বাংলাদেশি ও ১৪ সুদানি নাগরিকসহ মোট ৬৭ জন একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। সাগরে উত্তাল ঝড়ের মুখে পড়ে নৌকাটি যখন ডুবতে বসেছিল, ঠিক তখনই নেদারল্যান্ডসের Wagenborg Shipping-এর ‘IJBORG’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার পাওয়া বাংলাদেশিরা জানান, জাহাজটি পৌঁছাতে আর মাত্র ১০ মিনিট দেরি হলে তাদের কাউকেই হয়তো জীবিত পাওয়া যেত না।

নতুন জীবন ফিরে পেয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এসব অভিবাসী। দূতাবাস কর্মকর্তার সামনে ভয়াবহ সেই স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। গন্তব্য ছিল না মিশর, ফিরছেন দেশে
বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া ১১১ জন বাংলাদেশির মূল লক্ষ্য মিশর ছিল না; তারা সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সামুদ্রিক দুর্যোগের মুখে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ও উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় তারা প্রাণে বেঁচে মিশরে এসে পৌঁছান।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ও ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) তাদের কায়রো থেকে ঢাকা ফেরার বিমানের টিকিট প্রদানে সম্মতি জানিয়েছে। ইতোমধ্যে যাদের কাছে পাসপোর্ট ছিল তাদের অনেকে দেশে ফিরে গেছেন। মিশরের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে বাকিদের দ্রুত ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

স্বপ্নের ইউরোপ নাকি মৃত্যুফাঁদ?

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপ প্রবেশের এই চেষ্টা আবারও এক নির্মম বাস্তবতা সামনে এনেছে। ঝুঁকিপূর্ণ রাবারের নৌকা, বৈরী আবহাওয়া ও অদক্ষ চালকদের কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি। মানবপাচারকারী চক্রের লোভনীয় প্রলোভনে পড়ে বাংলাদেশিদের এ ধরনের আত্মঘাতী যাত্রায় সামিল হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

জামদানি শাড়িতে মায়াবী লুক, অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ করলেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
জামদানি শাড়িতে মায়াবী লুক, অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ করলেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা

চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও চিরসবুজ চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা আবারও নিজের নতুন লুক দিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়ে ঝড় তুললেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের কিছু ছবি শেয়ার করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এই তারকা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন পূর্ণিমা, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গেছে। ছবিগুলোতে তাকে একটি অভিজাত সবুজ রঙের জামদানি শাড়িতে দেখা গেছে। সঙ্গে মানানসই গহনা, চমৎকার হেয়ার স্টাইল এবং স্নিগ্ধ মেকওভারে তাকে লাগছে একেবারেই রাজকীয়।

ছবিগুলোর ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন— “Jamdani vibes and timeless elegance” (জামদানির আমেজ এবং চিরন্তন আভিজাত্য)। তার এই রূপ ও সাজসজ্জা যেন বলে দিচ্ছে, বয়স বাড়লেও তার রূপের জৌলুস বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং দিন দিন আরও পরিপক্ব ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এদিকে চিরচেনা রূপের এই স্নিগ্ধতা দেখে সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়েছেন ভক্তরা। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাকে ‘বাংলা সিনেমার রানি’ ও ‘চিরতরুণী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই নায়িকার ফ্যাশন সেন্স ও মার্জিত লুক বরাবরই ভক্তদের নজর কাড়ে, যার প্রমাণ মিলল তার এই সাম্প্রতিক জামদানি লুকের মাধ্যমে।

আদালতে অনুপস্থিতির দায়ে প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
আদালতে অনুপস্থিতির দায়ে প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে চলমান বিচারকাজে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) বর্তমান ও দেশের অন্যান্য ইউনিটে বদলি হওয়া প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বিচারিক প্রক্রিয়ায় বারবার সমন জারি করার পরও তা উপেক্ষা করায় আদালত বাধ্য হয়ে এ ধরনের চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

চিঠিপত্র ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সিএমপির উপকমিশনার (সদর) দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ১৮টি পৃথক স্মারকে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিগুলোতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রধানদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাঁদের আওতাধীন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের নির্ধারিত দিনে সকাল ৯টায় আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। অতীতে সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা সত্ত্বেও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। বিষয়টিকে বিচারকাজের দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্য ভবিষ্যতে আবারও অনুপস্থিত থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫(ক) ধারা অনুসরণে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

যেসব সাক্ষীকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে, তাঁদের পদমর্যাদা কনস্টেবল থেকে শুরু করে পরিদর্শক পর্যন্ত বিস্তৃত। অনেকে চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, সিলেট, চাঁদপুর, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই, নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বিশেষায়িত গোয়েন্দা সংস্থা এসবির সদস্যরাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের অধিকাংশ পূর্বে সিএমপির পতেঙ্গা, কোতোয়ালি, খুলশী, সদরঘাট, হালিশহর, চকবাজার, কর্ণফুলী, ডবলমুরিং, বায়েজিদ, চান্দগাঁও, আকবরশাহ, বাকলিয়া, পাঁচলাইশ, পাহাড়তলী ও ইপিজেড থানায় দায়িত্বরত ছিলেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বিচারাধীন এসব মামলা বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন বিশেষ আদালত এবং শিশু আদালতে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে।

গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালের একটি হত্যা মামলায় সিএমপি কমিশনারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আদেশ দেন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৩য় আদালত। আদালতে অভিযোগ গঠনের পর রাষ্ট্রপক্ষ বারবার চেষ্টা করেও সাক্ষীদের হাজির করতে ব্যর্থ হওয়ায় মামলার বিচারকাজ এগোচ্ছে না। আদেশে স্পষ্ট জানানো হয়, নির্ধারিত তারিখে সাক্ষীকে উপস্থিত রাখতে না পারলে ১৭১(২) ধারা অনুযায়ী সম্ভাব্য আইনি জটিলতার সব দায়ভার পুলিশ কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তাবে।

আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, কর্মস্থল পরিবর্তন কিংবা বদলির পর সমন যথাযথ স্থানে পৌঁছাতে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া অনেক সময় সমন পৌঁছালেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিলতে বিলম্ব হয়।

শুধু চট্টগ্রামই নয়, নোয়াখালী জেলাতেও পুলিশ সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ১২১ জন পুলিশ সদস্যকে আদালতে উপস্থিত থাকার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো সদস্য যৌক্তিক কারণ দর্শানো ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে বিভাগীয় আইনি শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে এবং এই প্রতিবেদন রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগেও সিএমপির পক্ষ থেকে শত শত পুলিশ সাক্ষীকে আদালতে পাঠাতে চিঠি জারি করা হয়েছিল। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, অভিযুক্ত সাক্ষীদের একটি অংশ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় চট্টগ্রামে দায়িত্বরত ছিলেন। নানা প্রতিকূলতা ও নিরাপত্তার ভয়েও অনেকে আদালতে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

আইনজীবীদের মতে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যের অনুপস্থিতি বিচারপ্রার্থী ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। আইন বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা দূর করে সাক্ষীদের সুরক্ষা ও যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় জবাবদিহিতা বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

 

৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে ৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী ৭ অক্টোবর দেশের সর্বউত্তরের বাংলাবান্ধা থেকে শুরু হয়ে এ কর্মসূচি শেষ হবে টেকনাফের জিরো পয়েন্টে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সভাপতিত্বে সভায় কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্যসচিব ফাতেমা তাসনিম জুমা। তিনি জানান, ৩৬ দিনের এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পদযাত্রা, পথসভা ও সমাবেশ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কর্মসূচির প্রথম ধাপে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার দিকে যাত্রা করবে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী ২১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি চত্বরে সমাবেশ করার কথা রয়েছে। এরপর মার্চটি পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়ে টেকনাফের জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হবে।

‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।

সভায় বক্তারা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ আজাদ পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমদ খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অফিস সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সল, বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির মুখপাত্র ইউসুফ আম্মারসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া কবি বোরহান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান, সাধারণ আলেম সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, জুলাইয়ে চোখ হারানো যোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল শাফিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এবং জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমদসহ অনেকে সভায় বক্তব্য দেন।

সভায় অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক