সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

৫ অক্টোবর ২০২৬

এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫২ পিএম
এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খবর

 

১. স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচন, ২৯ নভেম্বর

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগামী ২৯ নভেম্বর ২০২৬ দেশে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস আগেই এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

সানচেজের সংখ্যালঘু সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে সমস্যায় পড়ছিল। বিশেষ করে আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের দুটি জরুরি ডিক্রি গত শুক্রবার কংগ্রেসে পাস হয়নি। এর পরই আগাম নির্বাচন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। সানচেজ এখন নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে আরও শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল পিপি নির্বাচন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। দলটির নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো বলেছেন, এখন স্প্যানিশ জনগণের সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় এসেছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে পিপি এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য তাদের ভক্সের সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে।

| তথ্যসূত্র: Reuters, La Moncloa.

২. আবাসন সংকটই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু

আগাম নির্বাচনের পেছনে স্পেনের ভয়াবহ আবাসন সংকট বড় ভূমিকা রেখেছে।

ভাড়া বৃদ্ধি, বাড়ির স্বল্পতা এবং উচ্ছেদ ঠেকাতে সরকারের নেওয়া ব্যবস্থা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছিল।

গত শনিবার মাদ্রিদসহ স্পেনের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ আবাসন পরিস্থিতির প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। মাদ্রিদে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা নিয়ে আয়োজক ও প্রশাসনের হিসাবে বড় পার্থক্য থাকলেও আন্দোলনের ব্যাপকতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা ও উচ্ছেদ ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা নিতে চাইলেও বিরোধী পিপি, ভক্স এবং জুনৎস সরকারের প্রস্তাব আটকে দেয়। ফলে আবাসন সংকট এখন সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছে।

| তথ্যসূত্র: The Guardian, Reuters.

৩. ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া

২৯ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে ৬ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। ওই দিন নির্বাচনের ডিক্রি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হবে।

এর পর ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আবেদন, প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা এবং নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন ধাপ শুরু হবে। ২৯ নভেম্বর রোববার স্পেনের ভোটাররা নতুন কংগ্রেস ও সিনেটের জন্য ভোট দেবেন।

আগাম নির্বাচন হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহ স্পেনের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রচারণা, জোটের আলোচনা এবং দলগুলোর নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের সময় হয়ে উঠবে।

| তথ্যসূত্র: EFE, Reuters.

৪. সেপ্টেম্বরের বেকারত্ব বেড়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো

সেপ্টেম্বরে স্পেনে নিবন্ধিত বেকারের সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৮৭ জন বেড়ে ২৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আগস্টের তুলনায় বেকারত্ব বেড়েছে, তবে সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে এটি ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন।

একই সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন কর্মী যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুম শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসে বেকারত্ব সাধারণত বাড়ে। ফলে মাসিক বৃদ্ধি থাকলেও সামগ্রিকভাবে স্পেনের শ্রমবাজার আগের বছরের তুলনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

| তথ্যসূত্র: La Moncloa.


অভিবাসন

 

৫. সেউতায় অভিবাসীদের অস্থায়ী ক্যাম্প উচ্ছেদ অভিযান চলছে

সেউতায় অভিবাসীদের অস্থায়ী ক্যাম্প সরানোর অভিযান নিয়ে পরিস্থিতি এখনও আলোচনায় রয়েছে। উত্তর আফ্রিকার এই স্প্যানিশ ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক বড় অভিবাসী প্রবেশের পর কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের বিভিন্ন সরকারি কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য হলো সৈকত ও খোলা জায়গায় তৈরি অস্থায়ী অবস্থানগুলো সরিয়ে অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই, আশ্রয়প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা।

সেউতার পরিস্থিতি এখন স্পেনের জাতীয় নির্বাচনের অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করছে, আর সরকার মানবিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা বলছে।

| তথ্যসূত্র: EFE, Europa Press.

৬. নিয়মিতকরণ পাওয়া বিদেশিদের বড় অংশ সামাজিক নিরাপত্তায় কর্মী হিসেবে যুক্ত

স্পেনের অতিরিক্ত নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধতা পাওয়া বিদেশিদের মধ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কর্মী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

সরকারের হিসাবে, স্পেনে বিদেশি কর্মীর মোট সংখ্যা ৩৬ লাখের বেশি। শ্রমবাজারে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ স্পেনের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে নির্মাণ, কৃষি, হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিচর্যা ও পরিষেবা খাতে।

| তথ্যসূত্র: La Moncloa.


 বার্সেলোনা ও কাতালোনিয়া

 

৭. ভয়াবহ বৃষ্টির পর কাতালোনিয়ায় এখনও জরুরি পরিস্থিতির প্রভাব

সপ্তাহান্তের প্রবল বৃষ্টির পর আজও কাতালোনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি ফিরেনি। বিশেষ করে ভায়েস ওরিয়েন্তাল, মারেসমে ও বার্সেলোনেস এলাকায় বন্যা, সড়ক ক্ষতি ও পরিবহন সমস্যার প্রভাব রয়েছে।

গ্রানোলিয়ের্সসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। কয়েকটি ভবন খালি করতে হয়েছে এবং কিছু স্কুল বন্ধ রয়েছে। হাসপাতাল ও অন্যান্য সরকারি স্থাপনাও বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার সকাল পর্যন্ত জরুরি নম্বর ১১২-এ ৮ হাজার ৯০০-এর বেশি ফোন এবং প্রায় ৬ হাজার ৬০০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

| তথ্যসূত্র: El País.

৮. রোদালিয়েসে এখনও বড় ধরনের বিঘ্ন

অতিবৃষ্টির কারণে বার্সেলোনা ও কাতালোনিয়ার রোদালিয়েস ট্রেন পরিষেবায় আজও বড় ধরনের সমস্যা চলছে। বিশেষ করে মারেসমে ও জিরোনা অভিমুখী কয়েকটি রেলপথে পরিষেবা বন্ধ বা সীমিত রয়েছে।

কিছু অংশে ট্রেনের পরিবর্তে বাস চালানো হচ্ছে। ফলে কর্মদিবসের সকালে বার্সেলোনায় ঢোকা ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রীদের বাড়তি সময় লাগছে।

কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন ও অবকাঠামো পরীক্ষা করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করছে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও আবহাওয়ার ওপর।

| তথ্যসূত্র: Democrata.

৯. বার্সেলোনায় নতুন করে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

আজও বার্সেলোনা ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকায় মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে নদী, খাল, নিচু এলাকা এবং বন্যাপ্রবণ সড়ক এড়িয়ে চলার জন্য প্রশাসন সতর্ক করেছে। আগের বৃষ্টিতে মাটি ও অবকাঠামো দুর্বল হয়ে যাওয়ায় নতুন বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।

| তথ্যসূত্র: El País, Protecció Civil.

১০. বৃষ্টিতে বার্সেলোনার পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত

প্রবল বৃষ্টির কারণে শুধু রেল নয়, বার্সেলোনা শহরের বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিছু মেট্রো ও রোদালিয়েস পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়া, রাস্তার ক্ষতি ও ভূমিধসের কারণে যান চলাচলেও সমস্যা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার কিছু সড়ক ও বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

| তথ্যসূত্র: El País.


মাদ্রিদ

 

১১. আগাম নির্বাচন নিয়ে আয়ুসোর তীব্র আক্রমণ

মাদ্রিদের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াস আয়ুসো ২৯ নভেম্বরের আগাম নির্বাচন ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

আজকের এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে আয়ুসো সানচেজের সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন এবং দাবি করেন, সংসদে পর্যাপ্ত সমর্থন না থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত নির্বাচন ডাকতে বাধ্য হয়েছেন।

আবাসন সংকট ও পুয়ের্তা দেল সলের বিক্ষোভ নিয়েও আয়ুসো সমালোচনা করেন। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো তার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে।

| তথ্যসূত্র: Cadena SER.

১২. পুয়ের্তা দেল সলের আবাসন ক্যাম্প আপাতত সরছে না

মাদ্রিদের পুয়ের্তা দেল সল এলাকায় আবাসন সংকটের প্রতিবাদে স্থাপিত ক্যাম্প সরিয়ে দেওয়ার জন্য আয়ুসো সরকারের আবেদন খারিজ করেছে মাদ্রিদের উচ্চ আদালত।

আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্প উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় জরুরি পরিস্থিতি দেখতে পায়নি। ফলে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ক্যাম্পটি চালু থাকবে।

ক্যাম্পটি ইতোমধ্যে দশ দিনের বেশি সময় ধরে চলছে এবং স্পেনের আবাসন সংকট নিয়ে চলমান আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।

| তথ্যসূত্র: Cadena SER.

১৩. আবাসন আন্দোলনকে ঘিরে মাদ্রিদে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

পুয়ের্তা দেল সলের ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে মাদ্রিদের আঞ্চলিক সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে।

আয়ুসো সরকার ক্যাম্প সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের মাদ্রিদ প্রতিনিধি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্মান করার কথা বলেছে। আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি এখন আরও আইনি লড়াইয়ের দিকে যাচ্ছে।

| তথ্যসূত্র: Cadena SER, Democrata.

জামদানি শাড়িতে মায়াবী লুক, অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ করলেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
জামদানি শাড়িতে মায়াবী লুক, অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ করলেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা

চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও চিরসবুজ চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা আবারও নিজের নতুন লুক দিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়ে ঝড় তুললেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের কিছু ছবি শেয়ার করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এই তারকা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন পূর্ণিমা, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গেছে। ছবিগুলোতে তাকে একটি অভিজাত সবুজ রঙের জামদানি শাড়িতে দেখা গেছে। সঙ্গে মানানসই গহনা, চমৎকার হেয়ার স্টাইল এবং স্নিগ্ধ মেকওভারে তাকে লাগছে একেবারেই রাজকীয়।

ছবিগুলোর ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন— “Jamdani vibes and timeless elegance” (জামদানির আমেজ এবং চিরন্তন আভিজাত্য)। তার এই রূপ ও সাজসজ্জা যেন বলে দিচ্ছে, বয়স বাড়লেও তার রূপের জৌলুস বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং দিন দিন আরও পরিপক্ব ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এদিকে চিরচেনা রূপের এই স্নিগ্ধতা দেখে সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়েছেন ভক্তরা। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাকে ‘বাংলা সিনেমার রানি’ ও ‘চিরতরুণী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই নায়িকার ফ্যাশন সেন্স ও মার্জিত লুক বরাবরই ভক্তদের নজর কাড়ে, যার প্রমাণ মিলল তার এই সাম্প্রতিক জামদানি লুকের মাধ্যমে।

আদালতে অনুপস্থিতির দায়ে প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
আদালতে অনুপস্থিতির দায়ে প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে চলমান বিচারকাজে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) বর্তমান ও দেশের অন্যান্য ইউনিটে বদলি হওয়া প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বিচারিক প্রক্রিয়ায় বারবার সমন জারি করার পরও তা উপেক্ষা করায় আদালত বাধ্য হয়ে এ ধরনের চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

চিঠিপত্র ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সিএমপির উপকমিশনার (সদর) দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ১৮টি পৃথক স্মারকে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিগুলোতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রধানদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাঁদের আওতাধীন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের নির্ধারিত দিনে সকাল ৯টায় আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। অতীতে সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা সত্ত্বেও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। বিষয়টিকে বিচারকাজের দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্য ভবিষ্যতে আবারও অনুপস্থিত থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫(ক) ধারা অনুসরণে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

যেসব সাক্ষীকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে, তাঁদের পদমর্যাদা কনস্টেবল থেকে শুরু করে পরিদর্শক পর্যন্ত বিস্তৃত। অনেকে চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, সিলেট, চাঁদপুর, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই, নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বিশেষায়িত গোয়েন্দা সংস্থা এসবির সদস্যরাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের অধিকাংশ পূর্বে সিএমপির পতেঙ্গা, কোতোয়ালি, খুলশী, সদরঘাট, হালিশহর, চকবাজার, কর্ণফুলী, ডবলমুরিং, বায়েজিদ, চান্দগাঁও, আকবরশাহ, বাকলিয়া, পাঁচলাইশ, পাহাড়তলী ও ইপিজেড থানায় দায়িত্বরত ছিলেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বিচারাধীন এসব মামলা বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন বিশেষ আদালত এবং শিশু আদালতে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে।

গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালের একটি হত্যা মামলায় সিএমপি কমিশনারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আদেশ দেন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৩য় আদালত। আদালতে অভিযোগ গঠনের পর রাষ্ট্রপক্ষ বারবার চেষ্টা করেও সাক্ষীদের হাজির করতে ব্যর্থ হওয়ায় মামলার বিচারকাজ এগোচ্ছে না। আদেশে স্পষ্ট জানানো হয়, নির্ধারিত তারিখে সাক্ষীকে উপস্থিত রাখতে না পারলে ১৭১(২) ধারা অনুযায়ী সম্ভাব্য আইনি জটিলতার সব দায়ভার পুলিশ কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তাবে।

আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, কর্মস্থল পরিবর্তন কিংবা বদলির পর সমন যথাযথ স্থানে পৌঁছাতে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া অনেক সময় সমন পৌঁছালেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিলতে বিলম্ব হয়।

শুধু চট্টগ্রামই নয়, নোয়াখালী জেলাতেও পুলিশ সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ১২১ জন পুলিশ সদস্যকে আদালতে উপস্থিত থাকার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো সদস্য যৌক্তিক কারণ দর্শানো ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে বিভাগীয় আইনি শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে এবং এই প্রতিবেদন রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগেও সিএমপির পক্ষ থেকে শত শত পুলিশ সাক্ষীকে আদালতে পাঠাতে চিঠি জারি করা হয়েছিল। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, অভিযুক্ত সাক্ষীদের একটি অংশ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় চট্টগ্রামে দায়িত্বরত ছিলেন। নানা প্রতিকূলতা ও নিরাপত্তার ভয়েও অনেকে আদালতে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

আইনজীবীদের মতে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যের অনুপস্থিতি বিচারপ্রার্থী ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। আইন বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা দূর করে সাক্ষীদের সুরক্ষা ও যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় জবাবদিহিতা বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

 

৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে ৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী ৭ অক্টোবর দেশের সর্বউত্তরের বাংলাবান্ধা থেকে শুরু হয়ে এ কর্মসূচি শেষ হবে টেকনাফের জিরো পয়েন্টে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সভাপতিত্বে সভায় কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্যসচিব ফাতেমা তাসনিম জুমা। তিনি জানান, ৩৬ দিনের এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পদযাত্রা, পথসভা ও সমাবেশ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কর্মসূচির প্রথম ধাপে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার দিকে যাত্রা করবে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী ২১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি চত্বরে সমাবেশ করার কথা রয়েছে। এরপর মার্চটি পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়ে টেকনাফের জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হবে।

‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।

সভায় বক্তারা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ আজাদ পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমদ খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অফিস সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সল, বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির মুখপাত্র ইউসুফ আম্মারসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া কবি বোরহান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান, সাধারণ আলেম সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, জুলাইয়ে চোখ হারানো যোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল শাফিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এবং জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমদসহ অনেকে সভায় বক্তব্য দেন।

সভায় অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক