রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

মিরসরাইয়ে গলিত লোহা ছিটকে চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ এম
মিরসরাইয়ে গলিত লোহা ছিটকে চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু

ফার্নেসের ত্রুটিতে দগ্ধ ৪ জন, চিকিৎসাধীন আরেক শ্রমিক
চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি স্টিল কারখানায় ফার্নেসের ত্রুটির কারণে গলিত লোহা ছিটকে দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ফার্মিক স্টিল লিমিটেডের কারখানায় এ দুর্ঘটনায় চারজন দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত অপর শ্রমিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতরা হলেন চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং (৫৩), শ্রমিক শরিফুল ইসলাম (২৭) ও মনির হোসেন (২৭)। তাঁদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ও জেংলিং হং ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং মনির হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

যেভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা
কারখানা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফার্মিক স্টিল লিমিটেডের ফার্নেসে ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় চুল্লি থেকে গলিত লোহা ছিটকে পড়লে চারজন দগ্ধ হন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন জায়গায় বয়লার বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে। তাদের দাবি, এটি বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা নয়। ফার্নেসে ত্রুটির কারণে চুল্লি থেকে গলিত লোহা ছিটকে পড়েই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শরিফুল ইসলাম ও চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হংকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু
দুর্ঘটনার তিন দিন পর, ১ অক্টোবর সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফুল ইসলাম মারা যান। একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মনির হোসেন।

এরপর সর্বশেষ ২ অক্টোবর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি চীনা নাগরিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সুমন হোসেন নিশ্চিত করেন।

দুর্ঘটনায় দগ্ধ অপর শ্রমিক জুয়েল (৩৬) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিহত শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা
নিহত শরিফুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়েছে। পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় জোরারগঞ্জ থানায় নিহতের স্বজন এবং কারখানার চীনা ও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শরিফুলের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁরা মামলা না করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চান। নিহত শরিফুলের দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। তিনি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।

আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হালিম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনের মধ্যে চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজন মারা গেছেন। নিহতের পরিবার মামলা না করলেও পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারও দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ ছিল ফার্নেসের ত্রুটি।

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শিল্পকারখানার কারিগরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে এ দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দুর্ঘটনার পর আহত চারজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ এম
ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত চলার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতিদের সঙ্গে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে।

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির উল্লেখযোগ্য একটি অংশ গেছে আব্রাহাম চুক্তির আওতাভুক্ত আরব দেশগুলোর কাছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মরক্কো ও বাহরাইন মিলিয়ে ইসরায়েল থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এই তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আইআইএসএসের তথ্য অনুযায়ী, ইউএইর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, রাডার ও সেন্সরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।

দুই দেশের সহযোগিতা কেবল অস্ত্র কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিল্প ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বও গড়ে উঠেছে। আইআইএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বড় ডেটা, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করছে।

মরক্কো ও বাহরাইনও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ইসরায়েল থেকে এ দুই দেশও ড্রোন, রাডার ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। তবে আইআইএসএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অর্থায়নের সক্ষমতা এবং তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির কারণে আমিরাতের মতো বিস্তৃত শিল্প সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারেনি দেশ দুটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আব্রাহাম চুক্তির অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সামরিক ও প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতা সরঞ্জাম কেনার গণ্ডি পেরিয়ে যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আইআইএসএসের বিশ্লেষণ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা-উদ্বেগ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। এর মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রপ্তানি বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।

 

মেসির বিদায়ের আগে আর্জেন্টিনার গোলবন্যা, বুরকিনা ফাসোকে ৭-০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
মেসির বিদায়ের আগে আর্জেন্টিনার গোলবন্যা, বুরকিনা ফাসোকে ৭-০

বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসি শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি পরবেন। তাকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত দেশের লাখো সমর্থক। এর আগে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে বিদায়ী ম্যাচের প্রস্তুতিটা স্মরণীয় করে রাখল আলবিসেলেস্তেরা। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৬২তম দলটির বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।

মেসিকে ছাড়া এবারের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে খেলছে আর্জেন্টিনা। বলিভিয়ার বিপক্ষে চার গোলের জয় দিয়ে শুরু হয়েছিল তাদের নতুন অধ্যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষেও দাপুটে ফুটবল খেলেছে তারা। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল করে তিনবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধে এসেছে আরও দুটি গোল।

পেনাল্টি বক্সের ভেতরে মুমুনি দিয়ালোর ফাউলের শিকার হন অগাস্টিন জিয়ায়। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন লাউতারো মার্তিনেজ। বুরকিনা ফাসোর গোলকিপার রাজাক গুইরা তার প্রথম শটটি ঠেকিয়ে দিলেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান লাউতারো। তাতেই ম্যাচে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এর আগের ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষেও আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন লাউতারো। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে গোলটি ছিল তার টানা দ্বিতীয়। জাতীয় দলের জার্সিতে ৪২তম গোল করে সার্জিও আগুয়েরোর সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন তিনি। সামনে এখন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার ৫৪ গোলের রেকর্ড। ১২৫ গোল নিয়ে সবার ওপরে আছেন মেসি।

এরপর আবারও ভুল করেন মুমুনি দিয়ালো। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সেটি নিজের জালেই পাঠিয়ে দেন বুরকিনা ফাসোর এই ডিফেন্ডার। ওয়াগাদুগু ক্লাবে খেলা ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলারের জন্য ম্যাচের প্রথম আট মিনিটই হয়ে ওঠে ভুলে যাওয়ার মতো। তার আত্মঘাতী গোলেই আর্জেন্টিনার ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

ম্যাচের ১২ মিনিট পূর্ণ হওয়ার আগেই জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি। ডি-বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কোনো সুযোগ না দিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। এর মধ্য দিয়ে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে গোল করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের গোলের খাতা খুললেন প্রেস্তিয়ানি।

কয়েক দিন আগে বলিভিয়ার বিপক্ষে খালি জায়গা খুঁজে নিয়ে যেভাবে গোল করেছিলেন, বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষেও ঠিক সেভাবেই চতুর্থ গোলটি করেন নিকো পাস। এরপর দলের পঞ্চম গোলটি করেন হুলিয়ান আলভারেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত গোলের পর জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তার আরেকটি গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ওয়ান-অন-ওয়ান সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। আর ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে সপ্তম গোলটি যোগ করেন জিউলিয়ানো সিমিওনে।

২৩ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরল ১৫১ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ এম
২৩ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরল ১৫১ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী ৯টি কনটেইনারের প্রায় ১৫১ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় এসব রাসায়নিকবাহী কনটেইনার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে রাসায়নিকগুলো ধ্বংস করা হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ৯টি কনটেইনারে মোট ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন রাসায়নিক রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন সালফিউরিক অ্যাসিড, ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিড, ৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন মিথানল এবং ৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন থিনার রয়েছে।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, এসব রাসায়নিকের মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো চালানটি আসে ২০০৩ সালে। দুটি কনটেইনারে থাকা থিনারের একটি তখনই চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর কেটে গেলেও সেটি বন্দর থেকে খালাস করা হয়নি। অন্য থিনারের কনটেইনারটি আসে ২০১৬ সালে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এ ছাড়া প্রায় ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিডের কনটেইনারটি আসে ২০১৪ সালে। ২৫ দশমিক ৫৫ টন সালফিউরিক অ্যাসিডের কনটেইনার আসে ২০১৬ সালে। আর পাঁচটি কনটেইনারে থাকা ৯২ দশমিক ৫৪ টন মিথানল আমদানি করা হয় ২০১৯ ও ২০২৩ সালে।

দীর্ঘদিন ধরে এসব রাসায়নিক বন্দরে পড়ে থাকার পেছনে খালাস না হওয়া, প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এগুলো নিলামে বিক্রির সুযোগও ছিল না। ফলে বিপজ্জনক পণ্যবোঝাই কনটেইনারগুলো বছরের পর বছর বন্দরের জায়গা দখল করে ছিল।

রূপগঞ্জে হবে ধ্বংস
চট্টগ্রাম বন্দরে এসব রাসায়নিক ধ্বংসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ায় ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের কারখানায় নেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে পরিবেশসম্মত ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাসায়নিকগুলো ধ্বংস করা হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ জানান, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনারের জট কমানোর লক্ষ্যেই এসব রাসায়নিক ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ‘বি’ ইয়ার্ড থেকে রাসায়নিকবাহী বিশেষ কনভয় নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিপজ্জনক রাসায়নিক পরিবহনের কারণে পুরো বহরের সঙ্গে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়।

১২ সংস্থার সমন্বয়ে কার্যক্রম
বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের (বিএনএসিডব্লিউসি) সুপারিশ এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে রাসায়নিকগুলো সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ কাজে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার ব্যাটালিয়নসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো যুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান পরিবহন, নিরাপত্তা ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড রাসায়নিক ধ্বংসের দায়িত্ব নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ কাজের জন্য কোনো অর্থ নেবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বন্দরের নিরাপত্তা ও কনটেইনার জট কমানোর উদ্যোগ
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক একদিকে বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে, অন্যদিকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় কনটেইনারে থাকার কারণে এসব রাসায়নিকের অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী রাসায়নিক শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯টি কনটেইনার সরিয়ে নেওয়া হলো।

দীর্ঘ ২৩ বছর বন্দরে পড়ে থাকা একটি থিনারের কনটেইনার সরানোর মধ্য দিয়ে পুরোনো বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ বন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক পণ্যের জট কমাতে সহায়তা করবে।

 

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক