মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৯ এম
গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর করেছেন বলে জানা গেছে। গত রোববারের ওই সফরে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত সফরটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

বৈঠকের কেন্দ্রে ইরান

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ও শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ইরানকে ঘিরে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলমান ইরান সংঘাতের মধ্যেও দুই দেশ পরস্পরের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর আকস্মিক ও গোপন আবুধাবি সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে আলোচনা

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর এমন গোপন সফর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু ও তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিযোগিতা রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে।

৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে আমিরাতের সতর্কতার দাবি

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় শুরু থেকেই এ ধরনের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

ইরান সংঘাতেও আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর গোপন আমিরাত সফর এবং দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককে ইরান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের এক বছর আগে সূচি প্রকাশ করছে আইসিসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
বিশ্বকাপের এক বছর আগে সূচি প্রকাশ করছে আইসিসি

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সূচি আগামী বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর প্রকাশ করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে আইসিসি ও ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার (সিএসএ) যৌথ আয়োজনে সূচি প্রকাশের অনুষ্ঠান হবে। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক এক বছর আগে এই আয়োজন করা হচ্ছে। একই দিন থেকে টুর্নামেন্টের টিকিটের জন্য নিবন্ধনও শুরু হবে।

ক্রিকবাজের আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ২০২৭ বিশ্বকাপ শুরু হবে ২ অক্টোবর। দিনটি গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে পরিচিত। টুর্নামেন্টের ফাইনাল হওয়ার কথা ২১ নভেম্বর।

আগামী বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ১৪টি দল। এর মধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০টি দলের জায়গা নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই তালিকায় আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের পাশাপাশি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটটি দল থাকবে। বাকি চারটি দল বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল আসরে জায়গা করে নেবে। সূচি প্রকাশের সময় তাদের কোয়ালিফায়ার ১, ২, ৩ ও ৪ হিসেবে দেখানো হবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে নামিবিয়াও বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ। তবে আয়োজক হওয়ার পরও নামিবিয়ার মূল পর্বে খেলা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

বর্তমান র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার তালিকায় রয়েছে ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ নবম অবস্থানে থাকলেও বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে পারছে। কারণ র‍্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা আয়োজক হিসেবে সরাসরি মূল পর্বে খেলবে।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বর্তমানে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলছে। দলটির বিশ্বকাপে জায়গা পেতে হলে বাছাইপর্ব উতরে আসতে হবে। আগামী বছরের শুরুতে এই বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

১ অক্টোবর থেকেই বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেবে আইসিসি। তবে ওই দিন টিকিট বিক্রি শুরু হবে না। আগ্রহী দর্শকরা সেদিন থেকে টিকিট কেনার জন্য নিজেদের নাম নিবন্ধন করতে পারবেন।

আইসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের আগে ২০২৭ বিশ্বকাপকে তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের নাম সুপার সিরিজ। এই পর্বে ১৪টি দলের মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ে নিচের দিকে থাকা তিনটি দল রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। তিন দলের মধ্যে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা দল পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে খেলবে ১২টি দল। তাদের দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ছয়টি দল এবং রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্বে মোট ৩০টি ম্যাচ হবে। দুই গ্রুপের প্রতিটি থেকে শীর্ষ তিনটি দল এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে পরবর্তী সেরা একটি দল জায়গা করে নেবে সুপার সেভেন পর্বে।

সুপার সেভেন পর্বে ২১টি রাউন্ড রবিন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ধাপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। সেখানে প্রথম স্থানে থাকা দল মুখোমুখি হবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের। অন্য সেমিফাইনালে খেলবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দল।

দুই সেমিফাইনালের বিজয়ী দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন।

রাজপরিবার, প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্টজনদের শেষ শ্রদ্ধা

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির পত্নী সিতি হাসমাহর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩০ এম
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির পত্নী সিতি হাসমাহর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় 

শত বছরের জীবন থামল। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্যের অবসানে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদকে একা করে চিরবিদায় নিলেন তার জীবনসঙ্গী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী। সোমবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে মালয়েশিয়ার জনজীবনের অন্যতম পরিচিত এই নারীকে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মসজিদ থেকে পুত্রজায়ার পুসারা নেগারা পর্যন্ত জড়ো হন রাজপরিবারের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, রাজনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ।

সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০০ বছর বয়সে মারা যান সিতি হাসমাহ। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের আবহ।

দুপুরে তামান সুংগাই বেসির মসজিদ আস-শরিফে নেওয়া হয় তার মরদেহ। বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকেই সেখানে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিশিষ্টজনদের ভিড় বাড়তে থাকে। বেলা ৩টার আগে মরদেহ পৌঁছানোর পর মানুষের ঢল নামে। মসজিদের মূল নামাজের কক্ষ পূর্ণ হয়ে গেলে ভিড় ছড়িয়ে পড়ে বারান্দা ও প্রবেশপথ পর্যন্ত। বিপুল জনসমাগমে আশপাশের সড়কেও সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় ট্রাফিক পুলিশ।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মরদেহ বহনকারী শবযানের সঙ্গে পৃথক গাড়িতে মসজিদে পৌঁছান মাহাথির মোহাম্মদ। সাত দশকেরও বেশি সময়ের জীবনসঙ্গীকে শেষ বিদায় জানাতে এ সময় তার পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

মসজিদ আস-শরিফেই সম্পন্ন হয় সিতি হাসমাহর গোসল, কাফন ও জনসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা। বিপুল মুসল্লির উপস্থিতির কারণে আসরের নামাজ দুই দফায় আদায় করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় জানাজা।

বিকেল ৪টার দিকে জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মেলাকার ইয়াং দি-পেরতুয়া নেগেরি তুন মোহাম্মদ আলী মোহাম্মদ রুস্তাম, উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাদিল্লাহ ইউসুফ, যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জুলকেফলি আহমাদসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সাবেক শীর্ষ নেতারা।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তান সেরি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন, বেরসাতুর মহাসচিব দাতুক সেরি মোহাম্মদ আজমিন আলী, মুয়ারের সংসদ সদস্য সিয়েদ সাদ্দিক সিয়েদ আবদুল রহমান, রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভির প্রধান অ্যাডমিরাল তান সেরি জুলহেলমি ইথনাইন, দ্বিতীয় অর্থমন্ত্রী দাতুক সেরি আমির হামজা আজিজান এবং দাতিন সেরি রোসমাহ মানসুরসহ বিশিষ্টজনেরা।

জানাজা শেষে জাতীয় পতাকা ‘জালুর জেমিলাং’ দিয়ে মোড়ানো সিতি হাসমাহর কফিন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যরা বহন করে নিয়ে যান। পরে আনুষ্ঠানিক শবযানে করে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পুত্রজায়ার প্রিসিঙ্কট-২০ এলাকায় অবস্থিত পুসারা নেগারায়।

পুসারা নেগারায় একে একে উপস্থিত হন রাজপরিবারের সদস্য ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছান পাহাংয়ের তেংকু আম্পুয়ান তুনকু আজিজাহ আমিনাহ মাইমুনাহ ইস্কান্দারিয়াহ। তার সঙ্গে ছিলেন পাহাংয়ের তেংকু মাহকোটা তেংকু হাসানাল ইব্রাহিম আলম শাহ এবং তেংকু পুতেরি রাজা তেংকু আফজান আমিনাহ হাফিজাতুল্লাহ।

এ ছাড়া সিতি হাসমাহর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান পেনাংয়ের গভর্নর তুন রামলি নঘা তালিব, কেদাহর রাজা মুদা তেংকু সারাফুদ্দিন বদলিশাহ সুলতান সালেহউদ্দিন এবং নারী, পরিবার ও সমাজ উন্নয়নমন্ত্রী দাতুক সেরি ন্যান্সি শুকরি। সেখানে আগে উপস্থিত হন ফেডারেল টেরিটরিজবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মন্ত্রী হান্নাহ ইয়োহ ও কুয়ালালামপুরের মেয়র দাতুক ফাদলুন মাক উজুদ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা করেন, দেশের জনসেবায় সিতি হাসমাহর অগ্রণী ভূমিকা ও দীর্ঘস্থায়ী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে।

চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ইতিহাসে অগ্রগামী নারী চিকিৎসকদের অন্যতম। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে নারী, পরিবার ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন।

১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের সাত সন্তান মারিনা, মিরজান, মেলিন্ডা, মোখজানি, মুখরিজ, মাইজুরা ও মাজহার।

মালয়েশিয়ার রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় জীবনের দীর্ঘ সময়জুড়ে মাহাথিরের পাশে থাকা সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে দেশটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাজপরিবারের অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পুসারা নেগারায় প্রয়াত দাতিন সেরি এন্ডন মাহমুদের কবরের পাশে সিতি হাসমাহকে সমাহিত করা ।

মিশরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আল-আজহারে কাঁঠালগাছ রোপণ

আফছার হোসাইন, মিশর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৯ এম
মিশরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আল-আজহারে কাঁঠালগাছ রোপণ

মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আবাসিক ছাত্রাবাস ‘ইসলামিক মিশন সিটি’ পরিদর্শন করেছেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। এ সময় বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া জাতীয় ফল কাঁঠালের দুটি চারা রোপণ করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে মিশরের মাটিতে প্রথমবারের মতো কাঁঠালগাছ রোপণ করা হলো।
​রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কায়রোতে অবস্থিত ইসলামিক মিশন সিটিতে পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি।
​এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার শরিফের সহকারী মহাপরিচালক মোস্তফা, প্রেস সচিব ওমর ফাতেহি, মিশরে বাংলাদেশি ছাত্র সংগঠন ইত্তেহাদের সহসভাপতি দেলোয়ার মাহমুদ খান মিল্কি, পিএইচডি গবেষক আব্দুর রহিম, কিশোরগঞ্জের মাসুদ হাসান ও ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিনিধি মুয়াজ বিন মাহবুবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।
​সাক্ষাতকালে আল-আজহারে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, ইসলামিক মিশন সিটিতে আবাসিক আসন বাড়ানো এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। আল-আজহার কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।মিশন সিটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, “কয়েক বছর ধরে আল-আজহারে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছেন। তারা মেধাবী, পরিশ্রমী ও বিনয়ী।
​সাক্ষাতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরেন। তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে দেশের ঐতিহ্য পরিচয়ের স্মারক হিসেবে মিশন সিটিকে একটি কাঠের রিকশার মডেল উপহার দেন।
​শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে তারা দেশে ফিরে সমৃদ্ধি আনবেন-এটাই প্রত্যাশা।পরে তিনি ড. ঈসাম কাজিকে সঙ্গে নিয়ে মিশন সিটির পাবলিক লাইব্রেরি, জিমনেশিয়াম, টেনিস ও বিলিয়ার্ড হলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন। ১০৩টি দেশের শিক্ষার্থীরা যেখানে বসবাস করেন, সেখানে কাঁঠালগাছ রোপণকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।পরিদর্শন শেষে ড. ঈসাম কাজি আল-আজহারের পাঠ্যক্রম-সম্পর্কিত কিছু বই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেন। রাষ্ট্রদূতও শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে দূতাবাসের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানান।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক