ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ সৌদি বিমান হামলার দাবি হুতিদের
ইয়েমেনের মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান ৩৭ দফা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুতিরা। এসব হামলায় কয়েকজন ইয়েমেনি বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ দাবি করেন বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি। ইয়াহিয়া সারির ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা যুদ্ধবিমান মারিব ও আল-জাওফের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালায়।
এদিকে আনসারুল্লাহ নেতা সৈয়্যদ আবদুল-মালিক আল-হুতি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধান এবং ইসরায়েলের উসকানিতে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের জনগণ প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আল-হুতি বলেন, উত্তেজনা কমে আসার সময়ও সৌদি আরব ইয়েমেনকে দুর্বল ও বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে। তার দাবি, ইয়েমেন কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং তারা আত্মরক্ষার অবস্থানে রয়েছে। সানার বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে সর্বশেষ উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গত ১২ বছর ধরে চলা সংঘাতে সৌদি বাহিনী বাজার, বসতবাড়ি, হাসপাতাল ও স্কুলে হামলা চালিয়ে হাজারো নারী ও শিশুকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ করেন আল-হুতি।
তার ভাষ্য, ইয়েমেনিদের অধিকার ও স্বাধীনতা দমনের পাশাপাশি দেশটির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং বিভেদ উসকে দেওয়ার মাধ্যমে ইয়েমেনকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি নেতৃত্ব।
আনসারুল্লাহ নেতা আরও বলেন, ইয়েমেনের জনগণ তাদের অধিকার বিসর্জন দেয়নি। আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। তার দাবি, হুতিদের হামলার লক্ষ্য ছিল কেবল সৌদি সামরিক ঘাঁটি ও তেল স্থাপনা।
মক্কায় হামলা চালানোর বিষয়ে সৌদি আরবের অভিযোগকে ‘বড়, কুৎসিত ও জঘন্য মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন আল-হুতি। তার অভিযোগ, আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে সৌদি আরব সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করছে।
মক্কার পবিত্র মর্যাদাকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আনসারুল্লাহ নেতা।













