শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আলোচিত প্রসঙ্গ

কানাডা ইইউর অ্যাসোসিয়েট সদস্য হলে ইউরোপবাসীরা কী সুযোগ পাবেন?

মিরন নাজমুল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
কানাডা ইইউর অ্যাসোসিয়েট সদস্য হলে ইউরোপবাসীরা কী সুযোগ পাবেন?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক এবার নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ করার জন্য দরজা খোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি- এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদ নয়। বরং এমন একটি নতুন সম্পর্কের কাঠামো তৈরির প্রস্তাব, যার অস্তিত্ব এখনো ইইউর প্রচলিত ব্যবস্থায় নেই। ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হবে, কী অধিকার থাকবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কানাডা ইইউর সঙ্গে কতটা একীভূত হবে -এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো আলোচনার পর্যায়ে।

হঠাৎ কেন কানাডাকে নিয়ে এত আগ্রহ?

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কানাডা ও ইউরোপের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সাল থেকে কানাডা ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সিইটিএ (CETA) আংশিকভাবে কার্যকর রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের হিসাবে, এই চুক্তির পর এক দশকেরও কম সময়ে দুই পক্ষের পণ্য বাণিজ্য প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চে কানাডা ও ইইউ ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডা ইইউর ১৫০ বিলিয়ন ইউরোর সেফ (SAFE) প্রতিরক্ষা অর্থায়ন ব্যবস্থায় অংশ নেওয়ার চুক্তি করে। কানাডা ইইউর সামরিক সহযোগিতা কাঠামো পিইএসকো (PESCO)-তেও অংশ নিচ্ছে। ফলে সম্পর্কটি শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সরবরাহব্যবস্থার মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ কাছাকাছি আসছে।

এরপর এসেছে রাজনৈতিক বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেই অটোয়া ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর আগে স্পষ্ট করেছিলেন যে কানাডা ইইউর পূর্ণ সদস্য হতে চাইছে না; বরং তিনি ইউরোপের সঙ্গে একটি ‘বিশেষ জোট’ বা গভীর সহযোগিতার সম্পর্ক চান। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাবের পর বিষয়টি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।

‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ হলে কী হতে পারে?

এখনো কোনো চূড়ান্ত কাঠামো নেই। তবে ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাব এবং কার্নির বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো ক্ষেত্রে ইউরোপ ও কানাডা নিজেদের সক্ষমতা আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে চাইছে।

কার্নি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে কৌশলগত সক্ষমতার পাশাপাশি নাগরিকদের চলাচল ও কাজের সুযোগ নিয়েও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। কানাডার পক্ষ থেকে ইউরোপে ভিসামুক্তভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথাও এর আগে প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এটি এখনো কোনো কার্যকর নতুন অধিকার নয় এবং ইউরোপে বসবাসকারী বা কানাডার নাগরিকদের জন্য এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হয়নি।

অর্থাৎ, ভবিষ্যতে যদি নতুন কাঠামোতে শ্রমবাজার বা মানুষের চলাচল সহজ করার ব্যবস্থা যুক্ত হয়, সেটি বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় বড় পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু আজকের দিনে ইউরোপের রেসিডেন্টদের কানাডায় স্থায়ী হওয়ার জন্য কোনো নতুন ‘ইইউ-টু-কানাডা’ পথ চালু হয়নি।

ইউরোপে বসবাসকারীরা কি কানাডায় সহজে স্থায়ী হতে পারবেন?

এই প্রশ্নটিই ইউরোপে বসবাসকারী অনেক অভিবাসীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপে রেসিডেন্স পারমিট থাকা মানেই কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া নয়। একজন ব্যক্তি পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি বা অন্য কোনো ইইউ দেশে বৈধ রেসিডেন্ট হলেও কানাডার অভিবাসন আইনে তাকে নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে।

কানাডার প্রধান অর্থনৈতিক অভিবাসন ব্যবস্থার একটি হলো এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry)। এর মাধ্যমে ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রাম, ফেডারেল স্কিলড ট্রেডস প্রোগ্রাম এবং কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্স ক্লাস পরিচালিত হয়। আবেদনকারী প্রথমে প্রোফাইল তৈরি করে পুলে প্রবেশ করেন এবং পরে কমপ্রিহেনসিভ র‍্যাংকিং সিস্টেম বা সিআরএস (Comprehensive Ranking System বা CRS)-এর ভিত্তিতে প্রার্থীদের মধ্যে থেকে আমন্ত্রণ দেওয়া হয়।

এখানে ইউরোপে বসবাসকারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা আছে বিদেশে অর্জিত কাজের অভিজ্ঞতা এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry)-তে মূল্যায়ন করা যায়। অর্থাৎ কানাডায় আগে কাজ না করলেও ইউরোপে অর্জিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কিছু প্রোগ্রামে আবেদন করা সম্ভব।

তবে এটিকে সহজ পথ ভাবার কারণ নেই। বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি বা ফরাসি ভাষার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য বিষয় মিলিয়ে সিআরএস (CRS) স্কোর তৈরি হয়। আমন্ত্রণ পাওয়ার জন্য শুধু যোগ্য হওয়াই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট রাউন্ডে প্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতামূলক স্কোরও থাকতে হয়।

২০২৬ সালে কোন পেশার মানুষের সুযোগ তৈরি হচ্ছে?

কানাডা বর্তমানে অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতার মানুষকে বেছে নেওয়ার দিকে বেশি জোর দিচ্ছে।

২০২৬ সালের এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry)-তে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, এসটিইএম (STEM), কারিগরি পেশা, শিক্ষা এবং পরিবহন খাতের জন্য বিশেষ ক্যাটাগরি রয়েছে। ফরাসি ভাষায় শক্তিশালী দক্ষতাও আলাদা একটি ক্যাটাগরি। এর বাইরে কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসক, গবেষক ও সিনিয়র ম্যানেজার এবং কিছু সামরিক পেশার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে ইউরোপে বসবাসকারী ফরাসিভাষীদের জন্য বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব বহন করতে পারে। কানাডা কুইবেকের বাইরে ফরাসিভাষী স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৬ সালে এই লক্ষ্যমাত্রা মোট স্থায়ী বাসিন্দার ৯ শতাংশ, ২০২৭ সালে ৯.৫ শতাংশ এবং ২০২৮ সালে ১০.৫ শতাংশ। ২০২৯ সালের মধ্যে তা ১২ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

ফলে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ বা ইউরোপের অন্য দেশে বসবাসকারী এমন কেউ যদি ফরাসি ভাষায় শক্তিশালী হন এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা রাখেন, তাহলে বর্তমান কানাডীয় অভিবাসন ব্যবস্থায় তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সুবিধার পথ থাকতে পারে। তবে এটিও সিআরএস (CRS), পেশাগত যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের শর্তের ওপর নির্ভরশীল।

ইউরোপের রেসিডেন্টদের বড় প্রতিবন্ধকতা কোথায়?

প্রথম বাধা হলো- ইইউ রেসিডেন্স ও কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

দ্বিতীয়ত, কানাডা এখন অভিবাসনের সামগ্রিক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২৬ থেকে ২০২৮ পর্যন্ত প্রতি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে অস্থায়ী বাসিন্দাদের নতুন আগমনের লক্ষ্যমাত্রাও কমানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।

তৃতীয় বাধা হলো প্রতিযোগিতা। এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry)-তে যোগ্য প্রার্থী অনেক হলেও আমন্ত্রণের সংখ্যা সীমিত। ফলে উচ্চশিক্ষা, ভালো ভাষা-দক্ষতা, প্রাসঙ্গিক পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং ভালো সিআরএস (CRS) স্কোর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

চতুর্থ বাধা হতে পারে পেশাগত লাইসেন্স। ইউরোপে কোনো পেশায় কাজ করার অনুমতি থাকলেই কানাডায় একই পেশায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করা যায় না। বিশেষ করে চিকিৎসা, নার্সিং, কিছু প্রকৌশল ও নিয়ন্ত্রিত পেশায় কানাডার প্রাদেশিক লাইসেন্স বা স্বীকৃতি প্রয়োজন হতে পারে।

কানাডায় যাওয়ার আগে ইউরোপের রেসিডেন্টদের কী প্রস্তুতি দরকার?

যারা সত্যিই ইউরোপ থেকে কানাডায় স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ইইউ-কানাডা নতুন সম্পর্ক’কে ধরে বসে না থেকে বর্তমান কানাডীয় অভিবাসন ব্যবস্থার যোগ্যতা যাচাই করা।

প্রথমে নিজের বয়স, শিক্ষা, পেশা ও কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry) -এর সম্ভাব্য সিআরএস (CRS) স্কোর দেখতে হবে। এরপর ইংরেজি এবং প্রয়োজনে ফরাসি ভাষার দক্ষতা যাচাই করা জরুরি। বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে এডুকেশনাল ক্রেডেনশিয়াল অ্যাসেসমেন্ট বা ইসিএ (Educational Credential Assessment বা ECA) প্রয়োজন হতে পারে। কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ এবং অন্যান্য নথিও প্রস্তুত রাখতে হয়।

এর পাশাপাশি প্রভিন্সিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম বা পিএনপি (Provincial Nominee Program বা PNP)-ও গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার প্রদেশগুলো নিজেদের শ্রমবাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিবাসী বেছে নিতে পারে। ২০২৬ সালে পিএনপি (PNP) -এর জন্য ৯১,৫০০ স্থায়ী বাসিন্দার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অর্থাৎ শুধু টরন্টো বা ভ্যাঙ্কুভারকে লক্ষ্য না করে কানাডার অন্যান্য প্রদেশের শ্রমবাজার ও মনোনয়ন কর্মসূচিও দেখা যেতে পারে।

তাহলে ইইউ-কানাডা সম্পর্কের নতুন উদ্যোগে বাস্তব পরিবর্তন কবে?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়।

‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ ধারণাটি একেবারেই নতুন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন কোনো প্রচলিত সদস্যপদ কাঠামো বর্তমানে নেই। ফলে কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের জন্য নতুন কোনো চুক্তি বা আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। ইইউর ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অক্টোবরের ২৯-৩০ তারিখে কানাডার মন্ট্রিয়লে নির্ধারিত ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনটি তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে এই নতুন সম্পর্কের কাঠামো নিয়ে আরও স্পষ্ট আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সম্মেলনের আগে কোনো নির্দিষ্ট নতুন অভিবাসন অধিকার ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সব মিলিয়ে, কানাডা ও ইউরোপের সম্পর্ক যে দ্রুত বদলাচ্ছে, তাতে সন্দেহ নেই। বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একাধিক কৌশলগত ক্ষেত্রে দুই পক্ষ নিজেদের আরও কাছাকাছি আনছে। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ হওয়ার অভূতপূর্ব প্রস্তাব।

কিন্তু ইউরোপে বসবাসকারী মানুষের জন্য এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো- আজই কানাডায় স্থায়ী হওয়ার নতুন কোনো স্বয়ংক্রিয় দরজা খুলে যায়নি। বরং নতুন সম্পর্কের সম্ভাব্য কাঠামো ভবিষ্যতে নাগরিকদের চলাচল, কাজ ও ব্যবসার সুযোগ সহজ করতে পারে। তার আগে কানাডার বর্তমান এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry), প্রভিন্সিয়াল নমিনি (Provincial Nominee) এবং অন্যান্য বৈধ অভিবাসন পথই বাস্তব রাস্তা।

অন্যদিকে, কানাডা যখন একদিকে মোট অভিবাসনের চাপ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য, এসটিইএম (STEM), কারিগরি পেশা, শিক্ষা, পরিবহন এবং ফরাসিভাষী দক্ষ কর্মীদের মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মানুষ খুঁজছে, তখন ইউরোপের রেসিডেন্টদের জন্য সুযোগটি মূলত নির্ভর করবে ব্যক্তির পেশা, ভাষা, বয়স, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও কানাডার নির্দিষ্ট অভিবাসন প্রোগ্রামের সঙ্গে তার প্রোফাইল কতটা মেলে তার ওপর।

আর ইইউ-কানাডার নতুন ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ উদ্যোগ সেই হিসাবকে ভবিষ্যতে বদলে দিতে পারে – কিন্তু সেটি এখনো সম্ভাবনা, কার্যকর অভিবাসন অধিকার নয়।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক