বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারির আহ্বান ফলকার টুর্কের
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম তদারকিতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।
সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
ফলকার টুর্ক বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে আহ্বান জানিয়ে আসছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
ওই প্রতিবেদনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্তের সক্ষমতা কমিশনের থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
জাতিসংঘের সুপারিশ অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের কার্যকর ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের থাকা উচিত।
এদিকে বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রণীত বলপূর্বক গুমসংক্রান্ত আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন, অধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্বাধীনতা, তদন্তের ক্ষমতা ও জবাবদিহির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য নেই।
ফলকার টুর্ক তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিবাসীদের মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ‘সম্পর্কহীন’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশে অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর মতো পদক্ষেপের সমালোচনা করেন তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জানান, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।










