শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় গুগলের ডেটা সেন্টার, অবকাঠামো ব্যয় নিজেই বহন করবে কোম্পানি

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৮ পিএম
মালয়েশিয়ায় গুগলের ডেটা সেন্টার, অবকাঠামো ব্যয় নিজেই বহন করবে কোম্পানি

মালয়েশিয়ায় গুগলের প্রথম ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যয় স্থানীয় জনগণের ওপর চাপাবে না প্রতিষ্ঠানটি। সেলাঙ্গরের এলমিনা বিজনেস পার্কে নির্মাণাধীন এ ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রান্সমিশন লাইন ও সাবস্টেশন নির্মাণের ব্যয় গুগল নিজেই বহন করবে।

গুগল এশিয়া-প্যাসিফিকের গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগের প্রিন্সিপাল কেন সিয়াহ বলেছেন, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যয় নিজেদের বহন করার বিষয়ে গুগল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা বা সম্প্রদায়ের ওপর এ ব্যয় চাপিয়ে দিতে চায় না প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি বলেন, ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ বিলের শতভাগ গুগল নিজেই পরিশোধ করবে। কোনো ধরনের ভর্তুকিও নেওয়া হবে না। মালয়েশিয়ায় ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য নতুন যে বিদ্যুৎ ট্যারিফ চালু হয়েছে, সেটিই পরিশোধ করবে গুগল।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৮ দশমিক ০৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় গুগল। বর্তমানে সেলাঙ্গরের এলমিনা বিজনেস পার্কে ডেটা সেন্টারটির নির্মাণকাজ চলছে।

কেন সিয়াহ বলেন, কোনো স্থানে ডেটা সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেখানে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করে গুগল। ডেটা সেন্টারের বিদ্যুতের চাহিদা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা থাকলে অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরির ব্যবস্থা করা হয় অথবা বিকল্প স্থান বেছে নেওয়া হয়।

ডেটা সেন্টারটির পানি ব্যবহারের বিষয়ে কেন সিয়াহ বলেন, কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রকৃত ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করতে চায় গুগল। নকশা পর্যায়ে করা অনুমানের পরিবর্তে বাস্তব ব্যবহারের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, ডেটা সেন্টার চালু হওয়ার পর এলমিনা স্থাপনার বার্ষিক পানি ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করা হবে।

তিনি জানান, এলমিনার ডেটা সেন্টারে পানি ব্যবহারের ঝুঁকি মূল্যায়নে ১০০ বছর পর্যন্ত ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, স্থানীয় পানিসম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করেই ডেটা সেন্টারটির পানি ব্যবহার সম্ভব।

তবে স্থানীয় পানিসম্পদের ওপর ঝুঁকি তৈরি হলে গুগল পানি ব্যবহার না করে বিকল্প শীতলীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

এলমিনায় বাষ্পীভবনভিত্তিক শীতলীকরণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পানি পুনরায় সঞ্চালন করা হবে। পানি বাষ্পীভূত হয়ে শেষ পর্যন্ত জলচক্রে ফিরে গেলেও গুগলের পানি ব্যবহারের হিসাবের ক্ষেত্রে তা ব্যবহৃত পানি হিসেবে গণনা করা হবে।

কেন সিয়াহ বলেন, গুগল যতটুকু মিঠা পানি ব্যবহার করবে, তার সমপরিমাণের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পানি পুনরায় পূরণ করবে।

মালয়েশিয়ায় গুগলের প্রথম পানি পুনঃপূরণ প্রকল্পটি গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট সেন্টার ও পেতালিং জায়া সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় তামান আমান এলাকার একটি হ্রদ পুনরুদ্ধার এবং সেখানে মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গুগল মালয়েশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে। শিজেন এনার্জি ও টোটালএনার্জিসের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ২১ বছরের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়ায় নতুন করে ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে। এ উদ্যোগ গুগলের ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বক্ষণিক কার্বনমুক্ত জ্বালানিতে পরিচালিত হওয়ার বৈশ্বিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কেন সিয়াহ বলেন, গুগল এমন পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহার করতে চায় না, যা আগে থেকেই গ্রিডে রয়েছে। বরং এমন নতুন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করতে চায়, যা গুগলের বিদ্যুৎ ক্রয়ের নিশ্চয়তা না থাকলে হয়তো তৈরি হতো না।

নির্মাণে ৪ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান

এদিকে গুগলের মালয়েশিয়ার ডেটা সেন্টার শুধু প্রযুক্তিখাতেই নয়, নির্মাণ ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন কেন সিয়াহ।

তিনি জানান, একটি ডেটা সেন্টার নির্মাণের সময় সাধারণত ৪ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত থাকেন। নির্মাণপর্ব তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। ডেটা সেন্টারটি পুরোপুরি চালু হওয়ার পরও স্থায়ীভাবে কয়েকশ কর্মী কাজ করবেন। সার্ভার টেকনিশিয়ান, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পেশার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

কেন সিয়াহ বলেন, ডেটা সেন্টারকে অনেকেই এমন একটি ভবন হিসেবে মনে করেন, যেখানে খুব কম মানুষ কাজ করেন। বাস্তবে গুগলের ডেটা সেন্টারগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবা পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয় এবং এসব স্থাপনায় অত্যন্ত দক্ষ ও বিশেষায়িত জনবল প্রয়োজন।

তার মতে, অনলাইন সার্চ, ই-মেইল, ভিডিও স্ট্রিমিং ও ডিজিটাল পেমেন্টের মতো কোটি কোটি মানুষের ব্যবহৃত সেবা পরিচালনার পেছনে ডেটা সেন্টারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব স্থাপনার কম্পিউটিং সক্ষমতার প্রয়োজনও দ্রুত বাড়ছে।

ডেটা সেন্টারের কর্মীদের মধ্যে সার্ভার টেকনিশিয়ানরা যন্ত্রপাতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবেন। নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়াররা যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখবেন। যান্ত্রিক প্রকৌশলীরা শীতলীকরণ ব্যবস্থা পরিচালনা করবেন এবং বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীরা ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবেন।

এ ছাড়া ক্রয়, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্সের মতো ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ও বাড়বে সুযোগ

ডেটা সেন্টারকে ঘিরে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন গুগলের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, গুগলের একটি ডেটা সেন্টারে সরাসরি যে একটি কর্মসংস্থান তৈরি হয়, তার মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় আরও প্রায় ৯টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা সমর্থিত হয়।

এর মধ্যে নির্মাণ ও পরামর্শক সেবা, পরিবহন, নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সরবরাহের মতো বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত।

ডেটা সেন্টারে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য ক্যাফেটেরিয়াও প্রয়োজন হয়। ফলে স্থানীয় খাদ্য সরবরাহকারী, রান্নাঘরের কর্মী ও খাবার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

কেন সিয়াহ বলেন, ডেটা সেন্টারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা সরবরাহের জন্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এসব চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ করতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

তিনি বলেন, এ অর্থনৈতিক সুফল শুধু নির্মাণপর্বে সীমাবদ্ধ থাকবে না। গুগল নিজেদের ডিজিটাল সেবা পরিচালনার জন্য ডেটা সেন্টারগুলো তৈরি করে, বাইরের প্রতিষ্ঠানের কাছে জায়গা ভাড়া দেওয়ার জন্য নয়। ফলে স্থাপনাটি চালু হওয়ার পরও স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এর প্রভাব অব্যাহত থাকবে।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।

ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।
এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।

এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।

এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।

দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক