শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১২:০১ এম
মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ব্যবসার লাইসেন্স ব্যবহার করে বিদেশিদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা, বিভিন্ন ধরনের ভিসার অপব্যবহার এবং কথিত ‘আলী বাবা’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে ঘিরে দেশটির ব্যবসায়ী মহল ও প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের নামে লাইসেন্স নিয়ে বিদেশিদের ব্যবসা পরিচালনা, প্রক্সি কোম্পানি গঠন এবং ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ থাকলেও এবার সরকার বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, স্থানীয় কিংবা বিদেশি—যে-ই হোক না কেন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, ভিসা বা ব্যবসায়িক সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল সাংবাদিকদের বলেন, “আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, লাইসেন্সের অপব্যবহার বা ভিসার শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে স্থানীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তার এ বক্তব্যকে অনেকেই সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা হিসেবে দেখছেন।

 

মালয়েশিয়ায় বহু বছর ধরে আলোচিত একটি বিষয় হলো ‘আলী বাবা’ ব্যবসা। স্থানীয়ভাবে এর অর্থ হলো—কোনো মালয়েশীয় নাগরিক তার ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা কোম্পানির নিবন্ধন ব্যবহার করে বিদেশিদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেন। কাগজে-কলমে ব্যবসার মালিক স্থানীয় ব্যক্তি হলেও বাস্তবে ব্যবসা পরিচালনা করেন বিদেশিরা।

ব্যবসায়িক মহলের একাধিক সূত্র জানায়, খুচরা ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকান, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানি এবং অনলাইন বাণিজ্যের কিছু ক্ষেত্রে এমন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুয়ালালামপুরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, “অনেক বিদেশি বৈধ পথে ব্যবসা শুরু করতে না পেরে স্থানীয়দের লাইসেন্স ব্যবহার করেন। আবার কিছু স্থানীয় ব্যক্তি মাসিক অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স ভাড়া দেন। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি ব্যবসা খাতে জবাবদিহিও কমে যায়।”

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী, সামাজিক ভিজিট, ডিপেনডেন্ট কিংবা অন্যান্য ভিসায় প্রবেশ করে অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা বা চাকরিতে যুক্ত হওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে।

অভিবাসন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি ব্যবসা পরিচালনা বা কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন না। কিন্তু বাস্তবে কিছু ব্যক্তি ভিসার শর্ত অমান্য করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন অভিবাসন পরামর্শক জানান, “অনেকেই মনে করেন ভিসা পেলেই সব ধরনের কাজ করা যাবে। বাস্তবে প্রতিটি ভিসার আলাদা শর্ত রয়েছে। সেই শর্ত ভঙ্গ করলে জরিমানা, আটক কিংবা বহিষ্কারের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।”

মালয়েশিয়ায় প্রায় দুই দশক ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মো. কাজী সালাহউদ্দিন।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, “আমরা যারা নিয়ম মেনে কোম্পানি পরিচালনা করি, কর দিই এবং সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলি, তাদের জন্য সরকারের এই অবস্থান ইতিবাচক। কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পুরো প্রবাসী ব্যবসায়ী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

তার ভাষায়, “কেউ যদি ভিসার অপব্যবহার করে বা প্রক্সি ব্যবহার করে ব্যবসা চালায়, তাহলে বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। তাই সরকার আইন প্রয়োগ করলে প্রকৃত উদ্যোক্তারাই লাভবান হবেন।”

আরেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মানিউল্লাহ বলেন, “মালয়েশিয়া বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগ আর অবৈধ ব্যবসা এক বিষয় নয়। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, তাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশিরা স্থানীয়দের নামে ব্যবসা পরিচালনা করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করছেন। এতে কর পরিশোধ, শ্রমনীতি এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে না।

সেলাঙ্গরের ব্যবসায়ী লিম চি ওয়েই বলেন, “যদি সবাই একই নিয়ম মেনে ব্যবসা করত, তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু যখন কেউ শর্টকাট পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা করে, তখন বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।”

তিনি বলেন, “সরকারের উচিত শুধু অভিযান চালানো নয়, লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়ন প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করা।”

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা মনে করছেন, সরকারের সাম্প্রতিক অবস্থানকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। কারণ কোনো ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করলে তার দায় পুরো কমিউনিটির ওপর বর্তাতে পারে।

বাংলাদেশি কমিউনিটির এক নেতা বলেন, “মালয়েশিয়ায় অধিকাংশ বাংলাদেশি বৈধভাবে কাজ ও ব্যবসা করছেন। তবে অল্পসংখ্যক মানুষের অনিয়ম পুরো কমিউনিটির জন্য সমস্যা তৈরি করে। তাই সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভিসার ধরন অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং ব্যবসা করতে হলে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

ব্যবসায়িক মহলের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর অভিবাসন বিভাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কোম্পানি কমিশন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযান আরও জোরদার হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইসেন্স ভাড়া দেওয়া, প্রক্সি ব্যবসা এবং ভিসার অপব্যবহার বন্ধ করা গেলে মালয়েশিয়ার ব্যবসা খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, সরকারি রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং বৈধ বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে।

তাদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী বা দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ব্যবসা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কঠোর বার্তা এখন কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতার ওপর। তবে ব্যবসায়ী ও প্রবাসী মহলের অনেকেই মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অবৈধ ব্যবসা ও ভিসা অপব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং বৈধ উদ্যোক্তাদের জন্য আরও সমান সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক