শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পুরো গাজা দখলে অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী, নিহত ৮১

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ৪:৩৫ পিএম
পুরো গাজা দখলে অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী, নিহত ৮১

গাজা দখলে পুরোপুরি অভিযান শুরু। ছবি- ইন্টারনেট থেকে।

পুরো গাজা সিটি দখল ও নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত স্থল অভিযানের “প্রাথমিক কার্যক্রম” শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে শহরের উপকণ্ঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে। ৬০ হাজার রিজার্ভ সৈন্যকে ডাকা হয়েছে অভিযান পরিচালনা করা জন্যে।

ইসরায়েলি সেনারা ইতোমধ্যেই জেইতুন ও জাবালিয়া এলাকায় অভিযানে নেমেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ মঙ্গলবার এই অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন এবং বিষয়টি এই সপ্তাহের শেষে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে, হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল নিরীহ বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে “নৃশংস যুদ্ধ” চালিয়ে যেতে যুদ্ধবিরতির চুক্তি বাধাগ্রস্ত করছে।
ইসরায়েলের গাজা সিটি দখল পরিকল্পনার প্রস্তুতি শুরু হওয়ার সাথে সাথে ওই শহরে বসবাসরত লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে সরে গিয়ে দক্ষিণ গাজার আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত মাসে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে হামাসের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইসরায়েল সরকার পুরো গাজা উপত্যকা দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

বুধবার এক টেলিভিশন ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন বলেন, ২২ মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর হামাস এখন “ক্ষতবিক্ষত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে।”

তিনি জানান, আইডিএফ অভিযান শুরু করতে আর “অপেক্ষা করবে না।” তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছি, এবং এখন আইডিএফ সেনারা গাজার শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান নিয়েছে। দুটি ব্রিগেড জেইতুন এলাকায় স্থল অভিযান চালাচ্ছে, যেখানে তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় অস্ত্রভর্তি একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ খুঁজে পেয়েছে। এছাড়া আরেকটি ব্রিগেড জাবালিয়া এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা গাজা শহরে হামাসের ওপর আরো তীব্র হামলা চালাবো। কারণ গাজা সিটি ওই সন্ত্রাসী সংগঠনের রাজনৈতিক ও সামরিক ঘাঁটি। আমরা মাটির ওপর এবং মাটির নিচে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করব এবং হামাসের ওপর জনগণের নির্ভরতা ছিন্ন করব।”

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিকল্পনা “দুই পক্ষের জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং পুরো অঞ্চলকে এক স্থায়ী যুদ্ধচক্রে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে”।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, আরো মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হলে এবং লড়াই বাড়ানো হলে গাজার ২১ লাখ মানুষের জন্য “আগে থেকেই ভয়াবহ পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যাবে”।

তিনি আরো জানান, দুটি ব্রিগেড জেইতুন এলাকায় স্থল অভিযান চালাচ্ছে, যেখানে তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় অস্ত্রভর্তি একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ খুঁজে পেয়েছে। এছাড়া আরেকটি ব্রিগেড জাবালিয়া এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেন, জেইতুন ও সাবরা এলাকায় পরিস্থিতি “খুবই ভয়াবহ এবং অসহনীয়।”

সংস্থাটি জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি হামলায় পুরো এলাকায় ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিন শিশু ও তাদের বাবা-মা রয়েছেন, যাদের বাড়ি গাজার শহরের পশ্চিমে শাতি শরণার্থী শিবিরের বাদর এলাকায় বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও জানান, গাজায় হামাসের হাতে আটক ৫০ জন জিম্মিকে রক্ষায় আইডিএফ সবকিছু করছে। জিম্মিদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইসিআরসি সতর্ক করে বলেছে, গাজায় সামরিক কার্যক্রম আরও বেড়ে গেলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষ এবং জিম্মিদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “মাসের পর মাস ধরে চলা নিরবচ্ছিন্ন হামলা আর বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর গাজার মানুষ সম্পূর্ণরূপে ক্লান্ত। তাদের এখন আর কোন চাপ নয়, বরং স্বস্তি প্রয়োজন। আর ভয় নয়, বরং শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দরকার। মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে হলে তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ থাকতে হবে। সামরিক অভিযান আরও জোরদার হলে কেবল মানুষের কষ্ট বাড়বে, আরো পরিবার ছিন্নভিন্ন হবে এবং এক অপূরণীয় মানবিক বিপর্যয়ের হুমকি তৈরি হবে। জিম্মিদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”
আইসিআরসি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা দ্রুত ও বাধাহীনভাবে প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিসর একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি এবং প্রায় অর্ধেক জিম্মি মুক্তির কথা বলা হয়েছে। হামাস সোমবার জানিয়েছে, তারা এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

তবে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জবাব না দিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তারা আর আংশিক চুক্তি মেনে নেবে না, বরং তারা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চান যেখানে সব জিম্মি মুক্তি পাবে।

বুধবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের কাছে হামাস অভিযোগ করে বলেছে যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যস্থতাকারীদের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উপেক্ষা করেছেন এবং তিনিই “যে কোনো সমঝোতা বা চুক্তির পথে আসল বাধা”।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে চালানো হামলার জবাবে গাজায় অভিযান শুরু করে। সে হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর থেকে এখন পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে অন্তত ৬২ হাজার ১২২ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো হতাহতের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের তথ্যকেই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করছে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক