সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যেভাবে হয়ে ওঠেন ইরানের প্রভাবশালী সর্বোচ্চ নেতা

মিরন নাজমুল বার্সেলোনা প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৮ পিএম
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যেভাবে হয়ে ওঠেন ইরানের প্রভাবশালী সর্বোচ্চ নেতা

১৪ বছর নির্বাসন শেষে ১৯৭৯ সালে তেহরানে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। ছবি- ইন্টারনেট থেকে।

ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যার উত্থান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থা, ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি প্রক্রিয়া। কয়েক দশক ধরে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে যে প্রভাব বজায় রেখেছিলেন, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, বিপ্লবী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া বিশেষ পরিস্থিতি।

১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে এক ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া খামেনি ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। মাশহাদে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র কোমে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষায় যোগ দেন। সেখানে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির চিন্তাধারায় গভীরভাবে প্রভাবিত হন এবং শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয়-রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

ইসলামি বিপ্লবের প্রাক্কালে ধর্মীয় আলেমদের বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি; পাশে ঘনিষ্ঠ সহচররা। ছবি- ইন্টারনেট থেকে।

ষাটের দশক থেকেই খামেনি শাহবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। এই সময় একাধিকবার তাকে গ্রেফতার ও কারাবরণ করতে হয়। বিপ্লবপূর্ব এই রাজনৈতিক সংগ্রাম তাকে খোমেনির ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং পরবর্তী সময়ের ক্ষমতার কাঠামোয় প্রবেশের পথ তৈরি করে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের পতনের পর নতুন ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে খামেনি বিপ্লবী পরিষদের সদস্য হন। পরে তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংগঠনে ভূমিকা রাখেন, যা পরবর্তীতে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

১৯৮১ সালে তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন খামেনি এবং তার ডান হাত আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। একই বছর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাজাই নিহত হলে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় ইরান-ইরাক যুদ্ধ, রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন এবং বিপ্লব-পরবর্তী ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

বাম পাশে তরুণ বয়সের আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি; ডান পাশে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা হিসেবে তাঁর পরবর্তী সময়ের প্রতিকৃতি।
ছবি- ইন্টারনেট থেকে।

খামেনির জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নামের ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদের ওপর ন্যস্ত। খোমেনির মৃত্যুর পর এই পরিষদ খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করে। তবে তখন তিনি সংবিধানে নির্ধারিত ‘গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ মর্যাদায় পৌঁছাননি। এই জটিলতা কাটাতে সংবিধানে সংশোধন আনা হয় এবং তার ধর্মীয় পদমর্যাদা দ্রুত উন্নীত করা হয়, যাতে তিনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নিতে পারেন।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর খামেনি ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, বিচার বিভাগের প্রধান নিয়োগকারী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য মনোনয়নকারী হিসেবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত তার অনুমোদন ছাড়া কার্যকর হতো না।

তার নেতৃত্বের সময় ইরান নানা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে—২০০৯ সালের নির্বাচনের পর আন্দোলন, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ড, অর্থনৈতিক চাপ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভ—সব ক্ষেত্রেই তিনি রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

খামেনি তার ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে একটি অনুগত রক্ষণশীল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস, গার্ডিয়ান কাউন্সিল এবং আইআরজিসির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক ভারসাম্য নিজের পক্ষে রাখেন। ফলে ইরানের নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণের ভোট থাকলেও ক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রণ সর্বোচ্চ নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতা আজীবন দায়িত্বে থাকতে পারেন। সেই ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই খামেনি তিন দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় ছিলেন এবং খোমেনির পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালন করেন।

তার উত্থান দেখায়, ইরানে ধর্মীয় নেতৃত্ব, বিপ্লবী বৈধতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের সমন্বয় কীভাবে একজন নেতাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার আসনে বসাতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইরানের অনন্য শাসনব্যবস্থার একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যেখানে নির্বাচিত সরকারের ওপরেও একটি ধর্মীয়-রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, আল জাজিরা, এএফপি

এআই দিয়ে নারী সেনাসদস্য সেজে ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, যুবক গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ পিএম
এআই দিয়ে নারী সেনাসদস্য সেজে ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, যুবক গ্রেফতার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নারী পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন কৌশলে প্রায় সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ।

পিবিআই জানায়, ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নারী পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী শাহাদাত খান (২২) নামের এক তরুণের সঙ্গে টিটুর পরিচয় হয়। ওই পেজে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

পরে নারীসুলভ কণ্ঠে ফোন ও ইমোর মাধ্যমে শাহাদাতের সঙ্গে কথা বলে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে টিটুর বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে বিভিন্ন কৌশলে শাহাদাত ও তার মায়ের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়। নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পিবিআই।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ জানান, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ বেগমের ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাতের সঙ্গে ফেসবুকের ওই পেজের মাধ্যমে টিটুর পরিচয় হয়। পরে ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলার মাধ্যমে তিনি সম্পর্কটি বজায় রাখতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা প্রথমে আদালতে সিআর মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের সময় প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার পর বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে পিবিআই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তের পর ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়।

১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের জন্য নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মনজুর রহমান বিভিন্ন তথ্য ও নথি বিশ্লেষণ করে তোফায়েল আলম টিটুর সম্পৃক্ততার তথ্য পান।

এরপর ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারের পর ২১ সেপ্টেম্বর টিটুকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই জানিয়েছে, তোফায়েল নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে শাহাদাতের সঙ্গে পরিচয়ের পর ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলে তিনি সম্পর্কটি বজায় রাখতেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। শাহাদাতের মায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে পিবিআইয়ের পিসিপিআর যাচাইয়ে তোফায়েলের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

প্রতারণার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

 

এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজারের ওপরে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজারের ওপরে

এক ধাক্কায় আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্র জানায়, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। চলতি সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন বা ২৫ শতাংশ।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। কিন্তু নির্ধারিত দামে বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তাদের বর্তমানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

আমদানিকারকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জাহাজসংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে কয়েক গুণ। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানি উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না। আগে একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে অন্য পথ ব্যবহার করা যেত।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।

আমদানিকারকদের দাবি, বিশ্ববাজারে বাড়তি প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণে পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যরা জানান, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি বিইআরসির নির্ধারিত ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে।

তাদের মতে, নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোকসান এড়াতে অনেক আমদানিকারক আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে তারা প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছেন। বৈশ্বিক সংকটের কারণে উৎপাদকদের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নায় ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ যথাসময়ে না পৌঁছায় সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা দূর না হলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও এলপিজির এই সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

 

ছাত্র আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৮ পিএম
ছাত্র আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ

ছাত্রদের নেতৃত্বে চলমান গণআন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। তবে তার এই পদত্যাগকে সরাসরি ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হয়ে ক্ষমতায় থাকার কৌশল হিসেবেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভুচিচের জন্য এই আন্দোলন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই সার্বিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে পরে লাখো মানুষ যোগ দেন। দীর্ঘদিনের বিক্ষোভ ও জনদাবির মুখে ভুচিচ আগাম নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

আগামী নির্বাচনে ভুচিচের ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে এসেছে ছাত্র ও বিভিন্ন বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘ছাত্রদের জয়’ জোট।

সার্বিয়ার এই রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে পশ্চিম বলকান অঞ্চলেও পড়ছে। প্রতিবেশী দেশগুলো আশা করছে, সার্বিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে।

অন্যদিকে, চীনা বিনিয়োগ ও রাশিয়ার জ্বালানি সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর তুলনায় সার্বিয়ার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান পিছিয়ে রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে এই বিষয়টিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভুচিচ নির্বাচনে পরাজিত হলেও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়ে সার্বিয়ায় নতুন রাজনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।

 

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক