শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও ফাঁসির রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। এমনকি এই খবরটি প্রধান প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করেছে, যেখানে বিচার প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং মানবাধিকারসহ বিষয়ে নানা প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে।
BBC (বাংলা)শিরোনাম: “নৃশংসভাবে বিক্ষোভ দমনের মামলায় বাংলাদেশের সাবেক নেতা শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, । খবরের সারসংক্ষেপ: গত বছরের গণ–বিক্ষোভ দমনের মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতেই ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়ছে, তবে দিল্লির পক্ষ থেকে এখনো সাড়া মেলেনি।
রয়টার্স শিরোনাম:“শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মৃত্যুদণ্ড”। খবরের সারসংক্ষেপ: বহু মাসের বিচার প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলন দমন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ থাকা অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে।
আল-জাজিরা শিরোনাম:“শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, তাকে ফেরত দিতে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের আহবান”। খবরের সারসংক্ষেপ: ২০২৪ সালের ছাত্র বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল মনে করে, তিনিই ওই আন্দোলন দমন অভিযানের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন।
এএফপি (AFP)শিরোনাম: “মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড”। খবরের সারসংক্ষেপ: ঢাকার আদালতে জনাকীর্ণ কক্ষে রায় ঘোষণার সময় উল্লাসধ্বনি ওঠে। শেখ হাসিনা সেই সময় ভারতে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁকে দেশে ফিরে এই মামলায় অংশ নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে তিনি তা মানেনন ।
সিএনএন(CNN)শিরোনাম: “মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড”। খবরের সারসংক্ষেপ: ছাত্র আন্দোলন দমনের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার সরকারের পতনের প্রধান কারণও ছিল এই বিক্ষোভ।
গার্ডিয়ান শিরোনাম: “মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড”। খবরের সারসংক্ষেপ: ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান দমনের ঘটনায় ঢাকার আদালত শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
ভারতীয় এক্সপ্রেস শিরোনাম: “শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: এখন কী হবে”। খবরের সারসংক্ষেপ: বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার গঠিত ট্রাইব্যুনালই আজ তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।
দ্য হিন্দু শিরোনাম: “ছাত্র দমন-পীড়নের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী কামালের মৃত্যুদণ্ড”। খবরের সারসংক্ষেপ: ছাত্র আন্দোলন দমন মামলায় শেখ হাসিনা ও তাঁর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হয়েছে।
ডন (Dawn, পাকিস্তান)শিরোনাম: “ছাত্রদের ওপর দমন-পীড়নের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড”। খবরের সারসংক্ষেপ: গত বছরের আন্দোলনের ঘটনায় আদালত কয়েক মাস বিচার শেষে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ যে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় সহিংস দমন-পীড়নের অভিযোগে ১৪ নভেম্বর ২০২৫-এ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তিনটি অভিযোগে হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে—বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত, প্রতিরোধ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া, এবং সরাসরি হত্যার নির্দেশ দেওয়া। এই রায় ঘোষণায় হাসিনা ও কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।










