কুমিল্লায় ভাড়া বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার
নিহত মা তাহমিনা বেগম এবং মেয়ে সুমাইয়া আরফিন।
কুমিল্লা শহরের কালিয়াজুরী এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ও তাঁর মায়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
সোমবার সকালে নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওই এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—সুজানগর এলাকার প্রয়াত নুরুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগম (৫২) ও তাঁর মেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন (২৩)। চার বছর ধরে তাঁরা ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে নিহতদের ছেলে দেখেন দরজা টুল দিয়ে আটকানো। ভেতরে ঢুকে লাইট জ্বালাতেই মেয়ে ও মায়ের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, তাঁদের কোনো শত্রু ছিল না এবং হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
পুলিশ জানায়, রাতেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় তারা। পরে সোমবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহিনুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল দেখে মনে হচ্ছে, তাঁদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মেয়েটির গলায় দাগ পাওয়া গেছে, আর মায়ের একটি চোখ রক্তাক্ত। তবে মরদেহে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।”
তিনি আরও জানান, ভবনের নিচতলায় একটি স্কুল রয়েছে। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

রহস্যজনভাবে গায়েব সিসিটিভি ফুটেজ:
হত্যাকাণ্ডের সময় সেই বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আরও কেউ ছিলেন কি-না তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশের উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ঘটনার দিন সকাল থেকে দুপুরের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। তবে বেলা ১টার ৩৫ মিনিটের দিকে সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রোববার সকাল ৮টা ৮ মিনিটে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মাথায় টুপি পাঞ্জাবি পাজামা পড়া বাসায় প্রবেশ করে। পরে বেলা ১১টা ২২ মিনিটের দিকে তাকে বের হতে দেখা যায়। সবশেষ আবারও বেলা ১১টা ৩৪ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায় ওই ব্যক্তিকে। তবে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত আর কোনো সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, মরদেহ দুইটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি হত্যাকাণ্ড বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।










