৩০ কোটি ব্যারেলের নিচে মার্কিন কৌশলগত তেল ভান্ডার
ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত নেমে গেছে চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির কৌশলগত তেল মজুত থেকে ৬ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হয়েছে। এতে মজুতের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৮৭ লাখ ব্যারেলে। ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ৩০ কোটি ব্যারেলের নিচে নামল।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুতের ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৩৫ লাখ ব্যারেল। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর সময়ও মজুত ছিল প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল। এর আগে করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল পরিমাণ মজুত থেকে তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির কৌশলগত মজুতের ওপর চাপ ছিল।
এর মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে পথটি বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ২০২৬ সালজুড়ে কৌশলগত তেল মজুত থেকে আরও ১৭ কোটি ২২ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে জরুরি এই মজুত ইচ্ছেমতো কমিয়ে ফেলার সুযোগ নেই। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের এক মুখপাত্র গত জুনে জানিয়েছেন, কৌশলগত মজুতের অন্তত ৭ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। এটিই মজুত পরিচালনার সর্বনিম্ন সীমা।
এই সীমার নিচে তেল নামিয়ে আনলে মজুতাগারের কাঠামোগত স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একদিকে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার চাপ, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ জরুরি পরিস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত তেল সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।









