আরও ১৬১ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো লিবিয়া
২০২৩ সালের জুন থেকে চলতি বছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৭১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আইওএম-এর সহায়তায় নিরাপদে দেশে ফেরানো হয়েছে। ছবি- ইন্টারনেট থেকে।
লিবিয়া থেকে আরও ১৬১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসেই তিন শতাধিক বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে প্রত্যাবাসন করা হলো।
বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া জানিয়েছে, আইওএম (আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা)-এর ভাড়া করা বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে শুক্রবার প্রত্যাবাসিত অভিবাসীরা ঢাকায় পৌঁছান। বেনগাজীর বেনিনা বিমানবন্দরে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল অভিবাসীদের বিদায় জানান এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
প্রত্যাবাসিতরা লিবিয়ার গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য ট্র্যাভেল পারমিট ইস্যু করে। পরবর্তীতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আইওএম-এর সহযোগিতায় বিনা খরচে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে গত ২০ আগস্ট একই ডিটেনশন সেন্টার থেকে আরও ১৭৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
দূতাবাসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন থেকে চলতি বছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৭১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আইওএম-এর সহায়তায় নিরাপদে দেশে ফেরানো হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ সংখ্যা অন্তত ১০ হাজারে পৌঁছেছে।
আইওএম জানায়, ২০১৫ সাল থেকে স্বেচ্ছাপ্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় লিবিয়া থেকে এক লাখ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফিরতে সহায়তা করা হয়েছে। এর মূল অর্থায়ন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া ইতালি, ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েও অর্থায়ন করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত আফ্রিকা ও এশিয়ার ৪৯টি দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
আইওএম-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় অন্তত ৭৩ হাজার পুরুষ, ১৭ হাজার নারী এবং ১০ হাজারের বেশি শিশু নিজ দেশে ফিরেছে। শিশুদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন অভিভাবকবিহীন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সুযোগে মানবপাচারকারী চক্র ইউরোপমুখী অভিবাসীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে, জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করে এবং নানা নির্যাতনের শিকার করে। সমুদ্রপথে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়েও বহু অভিবাসী নৌকাডুবে নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
শুধু চলতি বছরেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ১,১২৬ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইওএম-এর মাইগ্রেশন মিসিং প্রজেক্ট। ২০১৬ সাল থেকে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৬০৪ জনে।













