নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে হামলা, তদন্ত করবে গোয়েন্দা সংস্থা
নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে হামলা, তদন্ত করবে গোয়েন্দা সংস্থা
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টির এক পর্যায়ে করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দরজা-জানালা ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের মধ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতাও ছিলেন।
রোববার বিকালে কনস্যুলেটে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছিলেন। তিনি প্রবেশ করার সময় বাইরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে জানা যায়, কিছু বিক্ষুব্ধ কর্মী ডিম নিক্ষেপ করে এবং পরে কনস্যুলেট ভবনের দরজা-জানালায় আঘাত হানতে থাকে। এতে প্রধান ফটকের কাচ ভেঙে যায় এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
এ সময় নিরাপত্তা কর্মী ও অফিস স্টাফরা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা ঠেকিয়ে দেন। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ অস্থায়ীভাবে দুজনকে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মন্তব্য করেন যে, এখানে কূটনৈতিক দায়মুক্তি বা ডিপ্লোমেটিক ইমিউনিটি বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এমনকি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামসকেও অবহিত করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করছে।
বিকাল ৫টা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। কনস্যুলেটের ভেতরে সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল মতবিনিময় সভা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, ওয়াশিংটন দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তুজা এবং কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। সভায় বক্তারা প্রবাসীদের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। রাত শেষে পুলিশি পাহারায় মাহফুজ আলম কনস্যুলেট ত্যাগ করেন। তার সরকারি সফর চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই মাসে ঘোষিত সংস্কারপত্র বা সনদ অনুযায়ী ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার, বিচারপ্রক্রিয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তন অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এসেছে এবং এর ফলে একটি নতুন বাংলাদেশের পথ তৈরি হয়েছে।
প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তুজা তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের অতীত রাজনীতিতে এক পরিবার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল, যা কার্যত রাজতন্ত্রের মতোই ছিল। সেই শাসনব্যবস্থার পতনে জনগণের আন্দোলন ভূমিকা রেখেছে। তার মতে, যদি আজ কেউ ডিম নিক্ষেপ করে বা কটূক্তি করে, সেটি গণতন্ত্রের পথে স্বাভাবিক বিরোধিতার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে।













