৫ বছর পর ঢাকা-ইইউ কূটনৈতিক সংলাপ, অংশীদারিত্ব গভীর করার প্রতিশ্রুতি
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ঢাকায় আবারও কূটনৈতিক সংলাপে বসেছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই সংলাপকে দুই পক্ষই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমুখী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত পঞ্চম দফার এই সংলাপে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং ইইউর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এরিক কুর্জওয়েল।
সংলাপে উভয় পক্ষ বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ব্রাসেলসে স্বাক্ষরিত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (PCA)-এর সূচনা দুই পক্ষই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
বাংলাদেশ ইইউ বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।
এছাড়া গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুই পক্ষ।
নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন পথ সম্প্রসারণ, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং শ্রম সংস্কারের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইইউর সহায়তা—বিশেষ করে গ্লোবাল গেটওয়ে উদ্যোগের আওতায়—বাড়ানোর আহ্বান জানায়।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতিও উভয় পক্ষ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
বাংলাদেশ আবারও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী ও টেকসই সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে, এই সংলাপকে শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়—বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।











