বাংলাদেশিসহ ১০৫ যাত্রী নিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেল ইউরোপগামী নৌযান, নিখোঁজ ৭০
ইউরোপগামী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌযান ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ডুবে গেছে। এতে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ইতালির কোস্টগার্ড বাহিনী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত এবং ২ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। তবে এখনও প্রায় ৭০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। জীবিতদের সবাই পুরুষ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্ধারপ্রাপ্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে নৌযানটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় বড় ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে না পেরে নৌকাটি উল্টে যায়।
ইতালীয় এনজিও Mediterranea Saving Humans জানিয়েছে, নৌযানটি লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তাজাউরা থেকে ছেড়ে আসে এবং এতে মোট ১০৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে লিবিয়ার নিয়ন্ত্রিত সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ জোনে।
ডুবে যাওয়া নৌযানটি থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ইতালির দ্বীপ ল্যাম্পেদুসা-তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জার্মান সংস্থা Sea-Watch আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করেছে। তাদের তোলা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উল্টে যাওয়া নৌকার ওপর আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশী।
সংস্থাগুলো নিখোঁজদের জন্য শোক প্রকাশের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউরোপে প্রবেশের জন্য ভূমধ্যসাগর রুটটি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতি বছর বহু অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরেও শত শত মানুষ এই পথে যাত্রাকালে নিখোঁজ হয়েছেন।






