রংপুরে এনসিপির ইফতার অনুষ্ঠানে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) মহানগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইফতারের আগে ও পরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের আগে স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে পীরগাছা থেকে আসা দুইজন প্রবীণ ব্যক্তিকে পাশ কার্ড ছাড়াই ভেতরে ঢুকতে দেন মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন। এ নিয়ে আপত্তি জানালে ছাত্রশক্তির কিছু নেতাকর্মী গেটেই তাকে মারধর করেন। বিষয়টি দেখে জেলা যুবশক্তির সংগঠক রাশেদুজ্জামান রাশেদ প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফা উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
তবে ইফতার শেষে স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় আবারও ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে যুবশক্তির সংগঠক রাশেদ, সিয়াম ফকির, আকাশ ইসলাম, মুহিত হাসান মীম, সীমান্তসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় স্টেডিয়ামের কিছু টেবিল-চেয়ারও ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত রাশেদ বর্তমানে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সার্কিট হাউজে এনসিপির আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠকে বসেন।
এ বিষয়ে মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনিয়র সিটিজেন বা শুভাকাঙ্ক্ষীরা পরিচিত কারও মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করলে তাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী তিনি পীরগাছা থেকে আসা দুইজন প্রবীণ ব্যক্তিকে ভেতরে প্রবেশ করান। তবে এরপরই তাকে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি বলেন, এটি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নজির আহমেদ জানান, ইফতার মাহফিলটি বড় পরিসরে হওয়ায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছিল। আমন্ত্রণপত্র ছাড়া কয়েকজন প্রবেশ করতে চাইলে সেখানে কিছু অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও নেতৃবৃন্দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এদিকে ইফতার মাহফিলের শেষ দিকে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য শেষে দোয়া-মোনাজাত শুরু হলেও উপস্থিত সাংবাদিকদের জন্য ইফতারের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এতে প্রায় শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী ইফতার না করেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। পরে তারা রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনে নিজেদের উদ্যোগে ইফতার করেন।
রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাদল বলেন, সাংবাদিকদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা না থাকা অত্যন্ত বিব্রতকর একটি ঘটনা। আগেই বিষয়টি জানালে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যেত। এখন এ বিষয়ে এনসিপি কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।










